• গড়িয়ায় ঢালাই ব্রিজে নয়া জলপ্রকল্প, একাধিক ফ্ল্যাটে ফাটলের অভিযোগ
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা: গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ সংলগ্ন অঞ্চলে নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করছে কলকাতা পুরসভা। সেই জলপ্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে বিপত্তি। অভিযোগ, পাইলিং এবং ভারী গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ চলছে বলে প্রকল্পের গা ঘেঁষা বহুতল আবাসনের একাধিক ফ্ল্যাটে ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজ চলার সময় মাঝেমধ্যেই তীব্র কম্পন হয়। এই নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আধিকারিকদের খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রয়োজন মতো মেরামত করে দেওয়া হবে।’ 

    ঢালাই ব্রিজ সংলগ্ন গড়িয়া স্টেশন রোডের নিউ পার্ক এলাকায় রয়েছে এই হাউসিং কমপ্লেক্স। এর ঠিক পাশেই তৈরি হচ্ছে পুরসভার জল প্রকল্প। যেখানে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন গ্যালন পরিশ্রুত পানীয় জল উৎপাদন হবে। প্রকল্পের কাজ তৎপরতার সঙ্গে চলছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে উদ্বোধন হওয়ার কথা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাইলিংয়ের কাজ চলার সময় আশপাশের বাড়ি কাঁপত। এখন বড় আকারের মেশিন এবং গাড়ি যাচ্ছে বলে ভালোরকম কম্পন অনুভূত হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে সমস্যা তীব্র হয়েছে। আবাসনের পাঁচিলও গিয়েছে ভেঙে। আবাসন কমিটির তরফে সুমন রায় বলেন, ‘বিশাল বড় প্রজেক্ট। আমাদের কমপ্লেক্সের একদম গায়েই তৈরি হচ্ছে। কমপ্লেক্সের যে ব্লকগুলি ওই জমির কাছাকাছি, সেখানকার বাসিন্দারা ভালো রকমের কম্পন অনুভব করছেন। এইচআইজি’র ‘এ’ এবং ’বি’ ব্লক এবং এমআইজি’র ‘বি’ এবং ‘ডি’ ব্লকের প্রায় আটটি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দেওয়ালে সরু ফাটল দেখা গিয়েছে। কিসের জন্য ক্র্যাক হয়েছে খতিয়ে না দেখলে বলা যাবে না।’ বাসিন্দাদের দাবি, ভালোরকমের কম্পন অনুভব হচ্ছে। প্রথমদিকে কোনও অসুবিধা হয়নি। তবে কম্পন হত। যেভাবে আওয়াজ হয় এবং কম্পন হয় তাতে সামনের বিল্ডিংগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। গত আট মাস ধরে সমস্যা তীব্র হয়েছে। পুরসভার অফিসাররা এসেছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটগুলির বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন। আবাসনের পাঁচিল এই কাজের জেরে ভেঙে গিয়েছিল। পুরসভা ঠিক করে দিয়েছিল। কয়েক মাস আগে আবার ভেঙে গিয়েছে। সুমনবাবু বলেন, ‘কলকাতা পুরসভার অফিসাররা আশ্বস্ত করেছেন পুরো পাঁচিল ভেঙে নতুন করে তৈরি করে দেবেন। যে ফ্ল্যাটগুলিতে ফাটল ধরেছে সেগুলির বিষয়ে আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে পুরসভার অফিসারদের কথা হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)