সেচদপ্তরে চাকরির নামে ৫০ লক্ষ টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে বেহালা থানা বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম ব্রজেন্দ্র দাস। তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের জাল অর্ডার ও সেচদপ্তরে নিয়োগের ভুয়ো নির্দেশনামা দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার অঙ্ক ৫০ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হয়েছে জাল নথি ও একাধিক সরকারি কর্তার নকল স্ট্যাম্প ও সিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্ধমানের বাসিন্দা ওই যুবক বেহালা এলাকায় কাজ করেন। তিনি নিজেকে সরকারি দপ্তরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের খুঁজে বের করে আলাপ জমাতেন। কারও সঙ্গে সামান্য ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে পারলে সেচদপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিতেন অভিযুক্ত। তিনি বলতেন, হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে চলেছে। চাকরির চেষ্টায় থাকা যুবক-যুবতীদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য হাইকোর্টের জাল অর্ডার তৈরি করে দেখাতেন। সেচদপ্তরে নিয়োগের ভুয়ো বিজ্ঞাপন এনেও দেখাতেন। এতসব দেখার পর কেউ আগ্রহ দেখালেই তাঁকে বলা হতো, চাকরি পেতে গেলে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। বেহালা ও আশপাশের এলাকার অনেকেই চাকরির আশায় তাঁকে টাকা দেন বলে তদন্তে উঠে আসছে। আরও জানা গিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪-এর জুলাই পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্রজেন্দ্র সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা তুলেছেন। তাঁকে টাকা দেওয়া সমস্ত প্রার্থীকেই তিনি জাল নিয়োগপত্র দেন। তাতে সেচদপ্তরের অফিসারদের নকল সই ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকে চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন যে নিয়োগপত্রটি জাল। বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় ২০২৪ সালে। অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয় হাইকোর্টের অর্ডার ও সেচদপ্তরের নিয়োগপত্র। সেগুলি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। সম্প্রতি তারা পুলিশকে জানায়, অর্ডার এবং নিয়োগপত্র, সবই জাল। অভিযুক্তের ব্যাংক অ্যকাউন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে ১০ লক্ষের বেশি টাকা ঢুকেছে। এরপরই বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বেহালা থানা। ধৃত জিজ্ঞাসাবাদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন বলে খবর। প্রতারণার অঙ্ক আপাতত ৫০ লক্ষ মতো হলেও তা কোটি ছাড়াতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। শুক্রবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের তরফে লিগ্যাল এডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, ‘টাকা উদ্ধার হলেই প্রমাণ হয় না যে অভিযুক্ত প্রতারণায় জড়িত।’ সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি বলেন, ‘একাধিক নথিও মিলেছে অভিযুক্তের বাড়িতে।’ উভয় পক্ষের সওয়াল শেষে বিচারক তাঁকে পুলিশ হেপাজতে পাঠান।