• সময়সীমা পার, আদিগঙ্গা সংস্কারের কাজ শেষ কবে? রিপোর্ট চাইল NGT
    এই সময় | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: আদালত জানতে চেয়েছিল নিয়ম মাফিক কাজ হচ্ছে কিনা। চেয়েছিল কজের অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট। টাইমলাইন মেনে কাজ হচ্ছে কিনা,তাও জানাতে বলা হয়েছি। কিন্তু আদিগঙ্গা বা টালিনালা সংস্কারের কাজ নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি) কার্যত অন্ধকারেই ছিল।

    যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, তাও শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত এনজিটি এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরসভার চিফ ইঞ্জিনিয়রের কাছে হলফনামা তলব করেছিল। সেই হলফনামায় পুরসভা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে কাজ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ আদি গঙ্গার দু’পাড়ে বেড়া দেওয়া হবে, কত দিনেই বা পলি তোলার কাজ শেষ হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীনা উল্লেখ করা হয়নি সেই হলফনামায়।

    এনজিটি নির্দেশ দিয়েছে, প্রতি ছ’মাস অন্তর কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের সংস্কার কাজের উপরে কড়া নজর রাখছে বলে আগেই উল্লেখ করেছিল। টালিনালা সংস্কার কাজে ঢিলেমি নিয়ে আদালতে মামলাটি করেছিলেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত।

    হলফনামায় কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, আদি গঙ্গার দূষণ রোধ ও সংস্কারের কাজ একাধিক ধাপে চলছে। আবর্জনা ফেলা আটকাতে ইতিমধ্যেই টালি নালার উপর প্রায় ৩০টি সেতুতে ফেন্সিং বসানো হয়েছে। পাশাপাশি খিদিরপুর দইঘাট ব্রিজ থেকে গড়িয়ার ঢালাই ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৫.২৫ কিলোমিটার এলাকায় নদীর দু’পাড়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

    পুরসভার দাবি, এতে নালায় আবর্জনা ফেলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে। তবে আদি গঙ্গার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার হওয়ায় বাকি অংশে ফেন্সিংয়ের কাজ ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও তার নির্দিষ্ট সময়সীমা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

    পাশাপাশি আদি গঙ্গার নাব্যতা বাড়াতে পলি তোলার কাজও চলছে বলে জানিয়েছে পুরসভা। হলফনামা অনুযায়ী, ড্রেজিংয়ের কাজ চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। চেতলা ব্রিজ থেকে গঙ্গার সঙ্গে সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রথম ধাপের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। চেতলা ব্রিজ থেকে কুঁদঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পরের দু’টি ধাপের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শেষ ধাপে ঢালাই ব্রিজ থেকে তেঁতুলবেড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

    হলফনামায় আরও জানানো হয়েছে, আদি গঙ্গা সংস্কার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা এনএমসিজি-র কাছে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজও অন্তর্ভুক্ত। সেই কাজের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে এবং প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশার কাজ চলছে।

    যদিও আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল, এত বড় প্রকল্পের নির্দিষ্ট টাইমলাইন কেন এখনও জমা দেওয়া হয়নি? হলফনামায় পুরসভা জানায়, কাজ একাধিক দফায় এবং বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদনের উপর নির্ভর করে চলায় নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব হয়নি। সুভাষ দত্ত বলেন, ‘কাজ শেষের সময়সীমা ২০২৪ সালেই শেষ হয়েছে। কিন্তু এই কাজ যে ভাবে হচ্ছে, তাতে দু’পাড়ে রেলিং বসানোর কাজ আদৌ শেষ হবে কিনা সন্দেহ আছে। কারণ, খালপাড় জবরদখলমুক্ত করা না গেলে এই কাজও করা যাবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)