• বদল করে বদলার ডাক শুভেন্দুর, চাঁদমারি ‘এপ্রিল’
    এই সময় | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: বদলা নয়, বদলের ডাক দিয়ে রাজ্যে পালাবদল করেছিল তৃণমূল। তিনি তখন সে দলের অন্যতম কাণ্ডারি। ঘটনাচক্রে সেই শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। দল বদলের সঙ্গে সঙ্গে স্লোগানও বদলে ফেলেছেন শুভেন্দু।

    শুক্রবার মালদার চাঁচলে জনসভা থেকে ‘বদলা’ নিতে রাজ্যে ‘বদলের’ ডাক দিলেন তিনি। গত বেশ কিছু দিন ধরেই অবশ্য তিনি একাধিক সভায় বলেছেন ‘বদল হবে, বদলাও হবে।’ এ দিনের সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘বিহার, ওডিশার পরে বাংলা সাফ হবে। এপ্রিলের পরে তৃণমূল বিরোধী আসনে যাবে।’

    এ দিন চাঁচল-১ ব্লকের কলমবাগান এলাকায় কয়েক হাজার কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার অনুমতি দেওয়া নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে টানাপড়েন চলেছে। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে সভা করেন শুভেন্দু। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি আমার হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নেওয়া ১০৪ তম কার্যক্রম। চির দিন কাহারও সমান নাহি যায়। এপ্রিলের পরে তৃণমূল বিরোধী দলে যাবে। সেই দিন হিসেব হবে।’

    স্থ্ানীয় মহকুমাশাসক সভার অনুমতি না–দেওয়ায় তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নামটা লেখা থাকল, ভোটের পরে দেখা হবে।’ এ দিনের সভা থেকে বিরোধী দলনেতা আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ১০০ দিন নয়, ২০০ দিনের কাজ মিলবে জব কার্ডধারীদের। দেড় লাখি বাড়ি নয়, তিন লাখের পাকা বাড়িও দেওয়ার ব্যবস্থা করবে তাঁদের সরকার।

    মালদা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মুর উপরে আক্রমণের বদলা নেওয়া হবে বলেও হুঙ্কার দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন খগেন মুর্মু। রক্ত দেখেছিলেন। বদলা যদি চান, তা হলে বদল আনতে হবে।’ বরাবরের মতো এখানেও হিন্দুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এই রাজ্যে দু’টি জায়গায় একজোট হয়েছেন সনাতনি হিন্দুরা। উত্তর মালদা ও নন্দীগ্রাম। উত্তর মালদাকে দেখে সনাতনিরা এগিয়ে এলে বিজেপি ২০০ নয়, ২২০টি আসন জিতবে।’

    শুভেন্দু আরও বলেন, ‘গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল আমাদের থেকে ৪০ লক্ষ ভোট বেশি পেয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। আরও যাবে। এপ্রিল এলে সবটাই বুঝতে পারবেন। এই দেউলিয়া সরকার এখন আর মানুষের জন্য কর্মসংস্থান করতে পারবে না। সবটাই ভাঁওতাবাজি দিয়ে চলছে। তাই এ বারে রাজ্যের মানুষই পরিবর্তন এনে দেবে।’ মালদায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মালতিপুরের বিধায়ক রহিম বক্সি বলেন, ‘দিশাহারা ও বিভ্রান্ত হয়ে কুৎসিত মন্তব্য করছেন তিনি। এর যোগ্য জবাব মানুষ দেবে।’

  • Link to this news (এই সময়)