আলিপুরদুয়ারে দাঁড়িয়ে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার আলিপুরদুয়ারে চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনাসভা ছিল অভিষেকের। ওই সভায় বক্তব্য রাখার পরে শ্রমিকদের কাছে তিনি জানতে চান, তাঁদের কোনও প্রশ্ন রয়েছে কি না।
অভিষেক যখন বক্তব্য রাখছিলেন, সেই সময় তাঁর কাছে চিরকুটে প্রশ্ন পাঠানো হয়। কুমারগ্রামের চা বাগান শ্রমিক রাজেশ ওরাওঁ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘দিনমজুরির রেট কম, আমাদের মজুরি বাড়ানোর জন্য সরকার কী করছে?’ সেই প্রশ্ন শোনার পরেই রাজেশকে মঞ্চে ডেকে নেন অভিষেক। আর কী কী সমস্যা রয়েছে, সেটা খুলে বলতে বলেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে পেয়ে একের পর এক সমস্যার কথা জানান রাজেশ। তিনি বলেন, ‘১৪ দফা দাবির কথা বলা ছিল। কিছুই হচ্ছে না। জঙ্গলের কাঠ পাচ্ছি না। জঙ্গলে আমাদের যেতে দেয় না। পাকা ঘর নেই। কোনও কোনও বাগানে শুধুমাত্র পলিথিন টাঙিয়ে শ্রমিকদের থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসার সুবিধা নেই, বাগানের হাসপাতালে সামান্য ওষুধও মিলছে না। টেট ভ্যাক্সিনও মিলছে না। পাহাড় এলাকায় এমন বাগান আছে, যেখানে ইমার্জেন্সির জন্য অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। গরিব লোককে নিজের মজুরি দিয়ে বা টাকা ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া দিতে হয়। স্কুল, শিক্ষা, পানীয় জল পাওয়া যায় না।’
এই প্রশ্ন শোনার পরেই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনার সব প্রশ্ন ঠিক। আমার মতে, দৈনিক মজুরির দাবি সঠিক। বাকি যা যা বলেছেন, সেগুলি সত্যিই সমস্যার।’ ওই মঞ্চে দাঁড়িয়েই মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার আগে চা বাগানের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল ৬৭ টাকা। গত ১৪ বছরে সেটা ২৫০ টাকা হয়েছে। অভিষেক বলেন, ‘গত বার যখন এসেছিলাম, তখন ২৩২ টাকা ছিল, সেটা ১৮ টাকা বেড়েছে। ২৫০ টাকায় ঘর-সংসার চলে না। যে ভাবে জিনিসের দাম বাড়ছে... তাতে বেসিক জিনিস কিনতে গেলেও ২৫০ টাকায় হয় না।’ তাঁর আশ্বাস, ‘চতুর্থ বার যখন সরকার হবে, তখন আমার অগ্রাধিকার হবে আলিপুরদুয়ার। আমি আসব, নয়তো সিনিয়র কাউকে পাঠিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করাব। চা বাগানে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি হোক, সেটা নিশ্চিত করব।’ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক ঘোষণা করেন, ‘সরকার তৈরি হবে। তার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে। সেই সময়ে যিনি মন্ত্রী, তিনি মিটিংয়ে থাকবেন। তার সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। ৩০০ টাকা হবে দৈনিক মজুরি।’
এ দিনের সভায় অভিষেকের বক্তব্য জুড়ে ছিল শুধুই চা বাগান। বাগান শ্রমিকদের পিএফ না পাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। বাগানে বেশ কিছু প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। বাকিগুলিও দ্রুত তৈরি করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করা এবং অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন তিনি। সর্বোচ্চ ২ বছরের মধ্যে সব প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ক্রেশ চালু হবে, আশ্বাস অভিষেকের।