গোয়ায় বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু, তদন্তের দাবি পরিবারের
আজকাল | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভিনরাজ্যে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম দেবানন্দ সানা। বয়স ৩৬ বছর। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে গত বুধবার পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর হাসাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয়, তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। দু’দিন পর হাসপাতাল থেকে ফোন করে পরিবারকে তাঁরপ মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পুলিশি হেফাজতে কি ভাবে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে মৃতের পরিবার। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করা হয়েছে দেবানন্দের পরিবারের তরফ থেকে।
বসিরহাট মহকুমার টাকি পুরসভার অন্তর্গত ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লি এলাকার বাসিন্দা দেবানন্দ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে গোয়ার ভাস্কো ফকির এলাকায় গিয়েছিলেন রাজমিস্ত্রির কাজ করতে। গত ২৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) প্রতিদিনের মতো কাজ করতে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় দেবানন্দের। এর পর তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি।
পরের দিন অর্থাৎ বুধবার স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ফোন করে দেবানন্দের মাকে জানানো হয় যে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভাস্কো থানার পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। দু’দিন পরে, অর্থাৎ শুক্রবার সেই হাসপাতাল থেকেই তাঁর পরিবারকে আবার ফোন করে জানানো হয় যে, দেবানন্দের মৃত্যু হয়েছে। পরিবার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাস্কোতে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়ে গত ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ পরিবারের।
শুক্রবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে টাকি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যান বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক সপ্তর্ষী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর্থিক অনটনে থাকা ওই পরিবারে একমাত্র উপার্জন করতেন দেবানন্দ। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুতে কার্যত দিশাহারা পরিবার। শুক্রবার দেবানন্দের দেহ কফিনবন্দি অবস্থায় বাড়িতে ফিরেছে।
দেবানন্দের পরিবারের প্রশ্ন, কী কারণে পুলিশ তাঁখে থানায় নিয়ে গেল, তাঁকে হাসপাতালে কেন ভর্তি করানো হল? পুলিশের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ।