• ২০২৯-সালেই সেবকে দ্বিতীয় করোনেশন সেতু, কাজ শুরু হচ্ছে এপ্রিলেই
    আজ তক | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • Sevoke Coronation Bridge: সেবকে করোনেশন সেতুর বিকল্প হিসেবে নতুন সেতু তৈরির কাজ আরও এক ধাপ এগোল। শুক্রবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এই প্রকল্পের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে টেন্ডার ডাকল। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা এই টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে ভেটিং, ওয়ার্ক অর্ডার-সহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করা হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে এপ্রিল মাস থেকেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে সময় ধরা হয়েছে প্রায় তিন বছর।

    এই প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের সঙ্গে সেবকে যান। করোনেশন সেতুর উপর দাঁড়িয়ে তাঁরা প্রস্তাবিত নতুন সেতুর নকশা ও অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাজু বিস্ট বলেন, “দার্জিলিংয়ের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি এই সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা কেন্দ্রকে জানিয়েছি। আজ টেন্ডার ডাকার মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তব রূপ নিচ্ছে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” তাঁর কথায়, এই সেতু শুধু শিলিগুড়ি বা পাহাড় নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন প্রয়োজন নতুন সেতু
    প্রায় ৮৮ বছর পুরনো করোনেশন সেতু দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ১৯৩৭ সালে সেতু নির্মাণ শুরু হয় এবং ১৯৪১ সাল থেকে যান চলাচল শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা ও ওজন অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে পরিমাণ ভার বহনের জন্য সেতুটি তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তার তুলনায় বহু গুণ বেশি চাপ নিতে হচ্ছে।

    ২০১১ সালে প্রথম করোনেশন সেতুতে ফাটল ধরা পড়ে। এরপর একাধিকবার মেরামত করা হয় এবং যান চলাচলের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বর্তমানে ১০ টনের বেশি ওজনের যানবাহন যাতে সেতু দিয়ে না চলে, তার জন্য হাইট ব্যারিয়ার বসানো রয়েছে। অথচ এই সেতুই ডুয়ার্স, আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

    প্রকল্পের খুঁটিনাটি
    এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় সরকার সেবকে বিকল্প সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। দু’বছর আগে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি শিলিগুড়ি সফরে এসে দ্বিতীয় সেতু তৈরির ঘোষণা করেন। এরপর ডিটেলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরি হয় এবং অর্থমন্ত্রকের অনুমোদনের পর এবার টেন্ডার ডাকা হল।

    এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ১১৭২.৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থে তিস্তা নদীর উপর ১৪ মিটার চওড়া কংক্রিটের নতুন সেতু তৈরি হবে। পাশাপাশি সেবক থেকে এলেনবাড়ি পর্যন্ত মোট ৬.৮৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হবে।

    সব মিলিয়ে, সেবকে দ্বিতীয় সেতু শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এক বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

     
  • Link to this news (আজ তক)