• কংগ্রেসে ঘরওয়াপসি মৌসম নূরের, বললেন, 'প্রধান বিরোধী বিজেপি'
    আজ তক | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • Mausam Noor Returns Congress: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগেই মালদহের রাজনীতিতে বড়সড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসের পতাকা ধরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। মালদহের প্রভাবশালী কোতওয়ালি পরিবারের এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে জেলা রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    কংগ্রেস সূত্রের দাবি, শনিবার দিল্লিতে এআইসিসি দফতরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মৌসম নূরের কংগ্রেসে যোগদান সম্পন্ন হয়েছে। সেই সময় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র তিন দিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে মালদহ জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ করেছিল। তার পরই তাঁর কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের খবরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

    ২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তরে জয়লাভ করেছিলেন গনির ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর। ২০১৪ সালেও ‘হাত’ প্রতীকে সাংসদ নির্বাচিত হন মৌসম। কিন্তু উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ঘটে যায় অঘটন। হাত ছেড়ে ঘাসফুল প্রতীকে প্রার্থী হতেই মালদহ উত্তর হাতছাড়া হয় মৌসমের। ত্রিমুখী লড়াইয়ের ভোট ভাগাভাগিতে জয়লাভ করেন বিজেপির খগেন মুর্মু। তারপর মৌসম নুরকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে তৃণমূল। ২০২৪-এ তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি। এমনকী একুশের বিধানসভাতেও তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি।

    মালদহের প্রয়াত কংগ্রেস নেতা বরকত গনি খান-এর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত কোতওয়ালি পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেস রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত।

    ২০০৯ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন মৌসম নূর। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েন। ২০১৫ সালে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে লোকসভা উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন। তাঁর রাজ্যসভার মেয়াদ ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। বর্তমানে মালদহে প্রয়াত বরকত গনি খান পরিবারের উত্তরসূরি ইশা খান চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের একমাত্র লোকসভা সাংসদ।

    কংগ্রেসের কৌশল, তৃণমূলের অস্বস্তি
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌসম নূরের প্রত্যাবর্তনে মালদহে কংগ্রেস নতুন করে সংগঠন মজবুত করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ মুখ হারিয়ে তৃণমূল যে অস্বস্তিতে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। ছাব্বিশের আগে এই রাজনৈতিক পুনর্মিলন মালদহের ভোট অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

     
  • Link to this news (আজ তক)