হেরে যাওয়া আলিপুরদুয়ারে 'রণ সঙ্কল্প সভা' করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিনের জন্য চা বলয়ের বিজেপির গড়কে বেছে নেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন কম্যান্ড। তাঁর দাবি, হেরে যাওয়ার পরও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হয়নি আলিপুরদুয়ারবাসীর জন্য। সমস্ত প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। তবে বিজেপি বাংলায় হেরে যাওয়ায় কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দেয় না। অভিষেক এও দাবি করেন, তাংর জেদের কাছে নতিস্বীকার করতে হবে বিজেপিকে।
অভিষেক এদিন বলেন, "যেখানে পার্টি হারে সেখানে কি প্রগতি ও উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখা যেতে পারে? তৃণমূল ২০২৫-এ আমরা পাঁচটা আসনেই হেরেছি। ২০২১-এ তৃণমূল হেরেছিল। বাংলায় বিজেপি হারতেই বাংলার সব টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল হারল আর এখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছে না, তা হয়নি। এটাই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে পার্থক্য। বিজেপি মানুষকে কোনও সুরাহা দিতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হারলে সব অনুদান বন্ধ হয়ে যায়। উল্টে এরা আপনাদের টাকা বন্ধ করে দেয়। দশটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালিয়ে যাই না আমরা। আমি যা বলি তাই করি। আমরা মিথ্যে বলি না।"
বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক আরও বলেন, "পুরো দেশে ১৫০০ রাজনৈতিক দল আছে, একমাত্র তৃণমূলের ক্ষমতা আছে বিজেপিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে। বছরের পর বছর বিজেপিকে আপনারা সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের সরকার আলিপুরদুয়ারে বন্যায় ভেসে যাওয়া ঘর, ব্রিজের সংস্কার করে দিয়েছে। বিজেপি শুধু ভোটের সময় আসে। ২০২২-এ আসেনি, ২০২৩-এও আসেনি। ২০২১-এ এসেছিল।"
বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, "SIR-এর নামে সবাইকে হেনস্থা করা হচ্ছে। SIR-এর মানে ৮০,৯০ বছর বয়সীদের হেনস্থা করা হয়। অন্য কোথাও এত হেনস্থা করা হয়নি। শুধু বাংলাতেই হয়েছে। বিজেপির যা জেদ, এর দশ গুণ জেদ আমার আছে। এই জেদকে বিজেপি ভয় পায়। আমার জেদের কাছে হার মানতে হবে বিজেপিকে। যদি বিজেপি আপনাদের জল, ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে তাদের ভোটবাক্সে জবাব দিতে হবে। ১০ বছর আগে নোটবন্দির লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল তারা। তাতে কী কালো টাকা বন্ধ হয়েছে?"
এদিন ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, "বিজেপির ভ্যানিশ কুমার জীবিত ব্যক্তিকে ভূত বানিয়ে দেন। এমন জাদুকর আগে দেখিনি। কাল বারুইপুরে তাঁদের হাঁটিয়েছি। ভ্যানিশ কুমার একটা জাদু দেখালে আপনাকেও দেখাতে হবে। বিজেপির লোক যখন বাড়িতে আসবে বলবেন, ভোট তো এবার আপনাকেই দেব। যেদিন ভোট আসবে সেদিন লাইনে দাঁড়িয়ে জোড়াফুলে দেবেন। ওরা ভাববে এটা কীকরে হল? এটাই তো ম্যাজিক। আলিপুরদুয়ারের ম্যাজিক দেখিয়ে দিন।"
তাঁর আরও দাবি, যে দলের সর্বোচ্চ নেতার কথার কোনও দাম নেই। সে দল মানুষকে কোনও সুরাহা দিতে পারবে না। আমারা ভেবেচিন্তে কথা বলি।