ব্রিফিংয়ে সুব্রত গুপ্ত জানান, শুরুতে রাজ্যে ভোটার তালিকায় মোট অসঙ্গতির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ। ধারাবাহিক যাচাই ও সংশোধনের পর সেই সংখ্যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজারে। তবে এখনও যে বিপুল সংখ্যক গরমিল রয়ে গিয়েছে, তাতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
স্পেশাল রোল অবজারভারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে পারিবারিক তথ্যের অসঙ্গতি। প্রায় ২৪ লক্ষ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এক পরিবারে ছয় জনের বেশি সন্তান দেখানো হয়েছে। নামের বানান বা তথ্যগত গরমিল ধরা পড়েছে আনুমানিক ৫১ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে।
বয়স সংক্রান্ত তথ্যেও বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ক্ষেত্রে সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরেরও কম। আবার বিপরীত ছবিও কম নয়। প্রায় ৮ লক্ষ ৪১ হাজার ভোটারের নথিতে সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দাদু–দিদা বা ঠাকুরদা–ঠাকুমার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম। এমন গরমিল ধরা পড়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ধরনের অসঙ্গতি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ধাপে ধাপে যাচাই প্রক্রিয়া চালিয়ে সমস্ত গরমিল সংশোধনের কাজ করা হচ্ছে। প্রকৃত ভোটারদের নাম সুরক্ষিত রাখাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।