গলে যায় আংটির ফাঁকে! কালনার বিখ্যাত মসলিন শাড়ির জাপান জয়
প্রতিদিন | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
অভিষেক চৌধুরী, কালনা: জাপান জয় করতে চলেছে বাংলার মসলিন শাড়ি! মসলিন সুতোর থান (কাপড়) দিয়ে জাপানের কর্পোরেট হাউসগুলি তৈরি করছে শাড়ি-সহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। বিশ্ববাংলার পক্ষ থেকে এর আগে কালনার (Kalna) এক সংস্থা বরাত পায়। সেই সংস্থার মাধ্যমে মসলিন এবার বিদেশেও পাড়ি দিচ্ছে। তাই কালনার মসলিন শিল্পের কদর যে বেড়েই চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কালনার মসলিনের সুনাম দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে আগেই। এখানকার মসলিন এতটাই নরম যে, এক একটি শাড়ি অনায়াসে হাতের আংটি দিয়েও গলে যায়! যা শুধু দেখতেই নয়, কেনার জন্য দেশ বিদেশ থেকে থেকে ভিড় করেন সাধারণ মানুষজন।
উল্লেখ্য, এবারের দুর্গাপুজোয় মসলিন সুতোর কাপড়ের বরাত পায় কালনার কাদিপাড়ায় থাকা কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত কালনা খাদি ও গ্রামীণ শিল্প কার্যালয়। সেই উপলক্ষে রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা ও খাদি বোর্ডের কাছ থেকেও কটন থানের বরাত দেওয়া হয় ওই সংস্থাকে। যদিও তার পরপরই জাপানের কয়েকজন প্রতিনিধি ওই সংস্থার মাধ্যমে কালনায় হস্তচালিত তাঁতের মাধ্যমে থান তৈরির কাজ দেখতে আসেন। তাঁতশিল্প ও শিল্পীদের সঙ্গে কথাও বলে মুগ্ধ হন তাঁরা। এরপরেই তাঁরা ফিরে যাওয়ার পর থেকে ওই সংস্থার মসলিন কাপড়ের বরাত মিলছে জাপানের কর্পোরেট হাউসগুলির কাছ থেকে।
সংস্থার চেয়ারম্যান তপন মোদক বলেন, “হস্তচালিত তাঁত বস্ত্র নিয়ে আমাদের দেশের কর্পোরেট হাউসগুলি যেমন কাজ করে, বরাত দেয়, ঠিক তেমনিই জাপানের কর্পোরেট হাউসগুলির কাছ থেকে কালনার মসলিন থান কাপড়ের বরাত মিলছে। এর আগে ৪ বান্ডিল অর্থাৎ ৫০ মিটার মসলিন কাপড়ের থান জাপানে পাঠিয়েছি। আবারও কথা চলছে। কালনা থেকে মুম্বই হয়ে বিমানের মাধ্যমে সেগুলিকে পাঠানো হয়। স্বাভাবিক কারণেই কালনার মসলিন শিল্পের যে ঐতিহ্য রয়েছে তা আবারও বিশ্বের দরবারে প্রমাণিত।”
সম্প্রতি ৪ বান্ডিল অর্থাৎ ৫০ মিটার মসলিন কাপড়ের বরাত মেলে ওই সংস্থার। এই মসলিন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৪০ জন মহিলা ও ২০ জন পুরুষ তাঁতশিল্পী। সংস্থার প্রধান কারিগর সুকুমার দাস বলেন, “কালনার মসলিন আমাদের কাছে বেশ গর্বের। কারণ মসলিনের সুনাম ও কদরই আলাদা।” নমিতা দাস ও পুতুল দাস নামের মহিলা তাঁতশিল্পীরা বলেন, “বিদেশে আমাদের তৈরি মসলিন থান যাচ্ছে। সেই কাপড়ের তৈরি পোশাক বিদেশিরা পরছেন ? এটা ভীষণ ভালো লাগার।”