• বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, পড়ুয়াদের টেনে-হিঁচড়ে ভ্যানে তুলল পুলিশ
    এই সময় | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • সরকার নির্ধারিত ফি নেওয়া হচ্ছে না। বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ পড়ুয়াদের। দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধের কারণে টেনে-হিঁচড়ে সরানো হয় বিক্ষোভকারীদের। শনিবার এই ঘটনায় মোট ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

    গত শুক্রবারও একই ইস্যুতে শিলিগুড়ির একাধিক স্কুলে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। শনিবার শক্তিগড় বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখায়। সকালে স্কুল খুলতেই কয়েকশো ছাত্রী স্কুল গেটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র কয়েকজন সদস্য প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে যোগ দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে এনজেপি থানার পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা স্কুল গেটে বিক্ষোভ দেখানোর পরে হঠাৎই স্কুল গেটের পাশে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা।

    প্রায় দেড় ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ থাকার পরে আন্দোলনকারীদের সরাতে যায় পুলিশ। তখন পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। অবশেষে জোর করে কয়েকজনকে ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ বলে অভিযোগ। রীতিমতো টেনে-হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে আন্দোলনকারীদের ভ্যানে তোলে পুলিশ।

    প্রধান শিক্ষিকা সুষমা পাল রায় সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। মাঠে টেবিল পেতে ভর্তির টাকা সংগ্রহ করছিলেন অন্য এক শিক্ষিকা। তিনি বলেন, ‘আমি জানি ২৪০ টাকা করে সংগ্রহ করার নিয়ম। কিন্তু আমাকে প্রধান শিক্ষিকা যা বলেছেন আমি তাই করছি।’ রিয়া সাহা নামে এক ছাত্রীর বক্তব্য, ‘কয়েক মাস আগে আমাদের পোড়াঝাড় এলাকায় বন্যা হয়। পরিবারের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বাবা সামান্য শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়তি টাকা দেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।’ ছাত্র সংগঠনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনিন্দিতা পণ্ডিত বলেন, ‘গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্যই সরকারি স্কুল। বাড়তি টাকা নিয়ে যারা নিয়ম ভাঙছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অপারগ হয়ে ছাত্রীরা পথে নেমেছে। আর পুলিশ সেই ছাত্রীদের উপরেই আক্রমণ করছে।’

    ঘটনা প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, ‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলার জন্য কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। মামলা রুজু করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ছাড়াও বিষয়টি আমরা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে জানাব।’

  • Link to this news (এই সময়)