বিধান সরকার: হুগলির পুইনানে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমা-র অর্থ সম্মেলন বা সমাবেশ। ভারতের মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হচ্ছে ধনিয়াখালির কাছের ওই জায়গায়। সমাজে ধর্মীয় সহনশীলতার ও ধর্মীয় সম্প্রীতী, ভ্রাতৃত্ব, সবহস্থান ও ইসলামের শান্তির বার্তা দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসেছেন মানুষজন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকেও এসেছেন প্রতিনিধিরা। বেসরকারি হিসেব মতো ইজতেমায় ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন ২০ লাখেরও বেশি মানুষ।
শনিবার পুইনানে ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ছিলেন ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্রও। ইজতেমায় এসে ফিরহাদ হাকিম বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় কোনও রাজনীতি নেই, এখানে রয়েছে শুধুই মানব নীতি। সেই নীতি নিয়েই হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমার মধ্যে দিয়েই সম্প্রীতি বজায় থাকবে। শনিবার দ্বিতীয় দিনে ইজতেমায় ভীড় ছিল প্রায় একই রকম। আরো দুদিন চলবে এই মুসলিম ধর্ম মহা সম্মেলন।
ইজতেমা নিয়ে ফিরহাদ আরও বলেন, গোটা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসছেন। এখানকার আলোচনা বিশ্ব ভাতৃত্বের কথা বলে, টলারেন্সের কথা বলে, ধৈর্যের কথা বলে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিরা এসেছেন। আমি খুশি। আগামী দুদিন আরো মানুষ আসবেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এরা সবাই আমাদের অতিথি। তারা সুষ্ঠু ভাবে আসবেন সুষ্ঠু ভাবে চলে যাবেন। তাদের যাতে যত্নে ত্রুটি না হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের সবার। অনেক লোক এসেছেন এবং আসছেন। তাদের জন্য খুব সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা স্থলে কোনো বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইজতেমার আয়োজন নিয়ে সবচেয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করেছে ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র। মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেন ধর্ম যার যার সেই কথা মেনেই ওরা কাজ করছে। নিজের ধর্মকে বিশ্বাস করে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে হয় এই কাজটাই ওরা করছে। আমরা বাংলায় সবাই একসাথে থাকি কোনো ভেদাভেদ ধর্মীয় উগ্রতা নেই। ঠাকুর বলেছেন যত মত তত পথ, সেই পথেই থাকি।
হুমায়ুন কবির ইজতেমায় এসে বাধার মুখে পড়েছিলেন। এনিয়ে প্রসঙ্গে ফিরহাদ হকিম বলেন, কেউ কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে আসবে, গন্ডোগোল পাকাতে চাইবে। কেউ কেউ মাথামোটা হয়, কেউ অশিক্ষিত হয়। সেটা নিয়ে কিছু বলার নেই। মানুষ ধর্যের সঙ্গে আছেন। আমাদের কোনো রাজনীতি নেই। চোরোকো আতি হ্যায় নজর সারে জাহা চোর। যারা নিজেরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তারা মনে করে ইজতেমা নিয়ে রাজনীতি করছি। আমরা দীঘা নিয়ে নিউ টাউন নিয়ে গঙ্গা সাগর নিয়ে রাজনীতি করি না। বিশ্ব ইজতেমা নিয়েও রাজনীতি করি না। সব ধর্মের মানুষকে সাহায্যের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার অনুরাগী তারা আছে যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়।