বছরের শুরু থেকেই গোটা মাসব্যাপী ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। সেই কর্মসূচির অংশ হিসাবে জেলায় জেলায় ‘রণসংকল্প সভা’ করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানে সভা তাঁর। চা শ্রমিকদের কী বার্তা দেন অভিষেক, সেদিকে নজর সকলের। সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য পেতে নজর রাখুন লাইভ আপডেটে।
দুপুর ৩.৩২: ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে সভা শেষ করলেন অভিষেক।
দুপুর ৩.৩০: বাকি প্রশ্নের পরে উত্তর দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
দুপুর ৩.২৫: নিকিতা নাকাসিয়ার অভিযোগ, রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাননি। অভিষেকের আশ্বাস, “আবেদনপত্র পাঠাবেন। টাকা পেয়ে যাবেন।”
দুপুর ৩.১৯: সঙ্গীতা ওঁরাওয়ের প্রশ্ন, “আমার জায়ের কয়েকদিন আগে সন্তান হয়েছে। ক্রেশ বানানো নিয়ে এখনও চা বাগানে জটিলতা রয়েছে। তাই সন্তান পিঠে নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।” অভিষেকের জবাব, “৩৪টি চলছে। বাকি ক্রেশগুলিকে আগামী ২ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। যখন কেউ চা বাগানে কাজ করতে যান তখন পাতা তুলতে তুলতে কাজ করা কঠিন তা আমি জানি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করব কথা দিচ্ছি।”
দুপুর ৩.১৮: আগামী ২ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ফেরানোর আশ্বাস অভিষেকের।
দুপুর ৩.১৪: অভিষেক বলেন, “আপনার দাবি একেবারেই ন্যায্য। দৈনিক মজুরি, স্কুল যাতায়াতে সমস্যা, চিকিৎসার সমস্যা সবই সত্যি। ২০১১ সালে আমাদের সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় ৬৭ টাকা দৈনিক মজুরি ছিল চা শ্রমিকদের। অনেক লড়াই করেছি। ২৫০ টাকা হয়েছে। এর আগে যখন এসেছিলাম ২৩২ টাকা ছিল। আমি মরে যাব তবু মিথ্যে কথা বলব না। আমি জানি আড়াইশো টাকায় সংসার চলে না। যেভাবে আলু, সবজি, পোশাক, জুতো, বাড়ি তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়ছে তাতে সম্ভব নয়। আমি কথা দিচ্ছি চতুর্থবার মমতার সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হবে আলিপুরদুয়ারে। একটা ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করব। তাতে বাগান মালিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমপক্ষে চা বাগানে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি করার চেষ্টা করব।”
দুপুর ৩.০৯: কুমারগ্রামের বাসিন্দা রাজেশ ওঁরাওয়ের অভিযোগ, দৈনিক মজুরি বৃদ্ধিতে সরকার কী করছে? মঞ্চে রাজেশকে ডেকে নেন অভিষেক। সমস্যার কথা শোনেন। রাজেশ বলেন, “আমরা শুধু ১৪ দফার দাবির কথাই শুনি। আর হাতে পাই মাত্র ২৫০ টাকা। হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাই না। একটা ওষুধও বিনামূল্যে পাই না। জ্বালানি কাঠ দেয় না। বাগানে অ্যাম্বুল্যান্সেরও ব্যবস্থা নেই। নিজেদের ব্যবস্থা করে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছতে হয়। আমরা কতটা বঞ্চিত দয়া করে দেখুন।”
দুপুর ৩.০২: জয়প্রকাশ কাঁকরার অভিযোগ, চা বাগানের ভালো চিকিৎসক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরও অভাব। অভিষেক বলেন, “২-৪ বছর ধরে এই অভিযোগ আসছে আমার কাছে। ২০২২ সালে যখন এসেছিলাম তখন বলেছিলাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। চিকিৎসকের অভাব রয়েছে রাজ্যে। তবে রাজ্য চেষ্টা করছে সমস্যা মেটানোর। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অ্যাম্বুল্য়ান্স, চিকিৎসক, নার্সের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে। আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করে ভালো করেছেন। দেরি হতে পারে মিথ্যা আশ্বাস দেব না।”
দুপুর ৩.০২: চা বাগানের জমিতে বাড়ি। কোম্পানি এনওসি দিচ্ছে না। বাড়িও মেরামত করছে না। জমির পাট্টাও দিচ্ছে না। অভিযোগ জানান কালচিনির এক বাসিন্দা। অভিষেক জানান, “কোথাও কোথাও জমিজট রয়েছে। সমাধানে কিছুটা সময় লাগছে। আপনি আর একটু অপেক্ষা করুন। হয়তো দেরি হচ্ছে, সমস্যা মিটে যাবে। তৃণমূল নেতৃত্বকে অনুরোধ করব প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যা সমাধান করুন।”
দুপুর ২.৫৮: কালচিনি থেকে রীতা ওঁরাওয়ের প্রশ্ন, “দুবাইতে কাজ করেন স্বামী। এসআইআর শুনানিতে ডেকেছে। ভারতে ফেরার টাকাও নেই। ছুটিও পাচ্ছেন না। বিএলও বলছেন না আসতে পারলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে। আমি কী করব?” অভিষেকের জবাব, “আপনাকে বুঝতে হবে, এভাবে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। তালিকায় নাম থাকলে কমিশন তা জোর করে কেটে দিতে পারেন না। আপনার কাছে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা আছে। তাই অনলাইনে ফর্ম ৬এ পূরণ করুন। দরকার পড়লে নথিগুলিতে কনস্যুলেটের স্ট্যাম্প নিয়ে জেরক্স কপি বিএলও-কে জমা দিন। আপনাকে যদি কোনও বিএলও এই কথা বলে থাকেন তবে ইআরও-র কাছে অভিযোগ জানান। আর যদি কোনও সমস্যা হয় তৃণমূলের শিবিরে যান। সেখানে গিয়ে একটি জেরক্স কপি জমা দিন। চিন্তা করবেন না।”
দুপুর ২.৫৬: অভিযোগ বাক্সে জমা পড়া চিরকূট থেকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় অভিষেক।
দুপুর ২.৫৫: “যতই ইডি, সিবিআই লাগাও, তৃণমূল জিতবে”, হুঙ্কার অভিষেকের।
দুপুর ২.৪৯: “আলিপুরদুয়ারে পাঁচে পাঁচ করতে হবে। আলিপুরদুয়ারের প্রতিদানের সময় ছাব্বিশের নির্বাচন”, টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক।
দুপুর ২.৪৭: অভিষেক আরও বলেন, “এই বাংলা কারও কাছে মাথানত করবে না। দিল্লির অপশক্তির কাছে মাথা নোয়াবে না।”
দুপুর ২.৪৫: বিজেপিকে উন্নয়ন খোঁচা অভিষেকের, “ওরা ভোট চাইতে আসলে আগে রিপোর্ট কার্ড চান। আমরা উন্নয়নের পাঁচালি দিয়ে দিয়েছি। কোথায় গেল বিজেপির রিপোর্ট কার্ড।”
দুপুর ২.৪৩: চিকেন প্যাটিস বিক্রেতা ‘হেনস্তা’য় সরব অভিষেক। বলেন, “কেউ চিকেন প্যাটিস বিক্রি করলে মারছে। কোথায় মারছে যেখানে গীতাপাঠের আসর বসেছে। ওরা ঠিক করবে কে কী খাবে। আমি হিন্দু। আমার ধর্ম কাউকে মারধর করতে শেখায়নি।”
দুপুর ২.৪১: অভিষেকের (Abhishek Banerjee) আর্জি, “সব বুথে জোড়াফুল ফোটাতে হবে। বিজেপি হারলে তবেই আলিপুরদুয়ার দৌড়বে। এবার ভোট দিয়ে ওদের সাফ করতে হবে। ওদের উৎখাত করে দিন।”
দুপুর ২.৩৫: অভিষেকের চ্য়ালেঞ্জ, “তৃণমূলই একমাত্র বিজেপিকে জব্দ করতে পারে। বিজেপির থেকে বেশি জেদ আমার। এক দেশ, এক ভোট আইন পাশ করতে দেব না সংসদে।”
দুপুর ২.৩০: সকলকে ভোটদানের আর্জি অভিষেকের। তাঁর কথায়, “মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতে চায় বিজেপি। এবার সবক শেখানোর ভোট। সর্বশক্তি দিয়ে তৃণমূলকে জেতান।”
দুপুর ২.২৭: বিজেপি সাংসদকে সরাসরি খোঁচা অভিষেকের। তাঁর প্রশ্ন “মনোজ টিগ্গাকে কখনও আন্দোলন করতে দেখেছেন? একটাও চিঠি লিখেছিলেন? সংসদে প্রশ্ন করতে দেখেছেন? বিজেপি সাংসদ ও কালসাপ দু’টোই এক।”
দুপুর ২.২৫: নোটবন্দি, এসআইআর ইস্যুতে অভিষেকের তোপ, “নোটবন্দি করেছিল, কিন্তু কালো টাকা বন্ধ হয়নি। এখন ভোটের অধিকার বাঁচাতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। জীবন্ত মানুষদের ভূত বানিয়ে দিচ্ছে।”
দুপুর ২.২৩: চা বাগান শ্রমিকদের অভিষেকের বার্তা, “চা বাগান অধিগ্রহণের কথা বলেছিলেন মোদি। বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পরে বাতিল করেন। আমরা মিথ্যে বলি না। কথা দিলে কথা রাখি। বিজেপির মতো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় না কেন্দ্র।”
দুপুর ২.১৬: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বলেন, “১০০ দিনের টাকা ৫ বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছে কেন্দ্র। বাংলায় হারের পর টাকা বন্ধ। তৃণমূল হারলেও একজনের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলতে পারবেন না। ভোটে হারলেও থামবে না উন্নয়ন।”
দুপুর ২.০৮: মঞ্চে পৌঁছলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুপুর ১: চা বাগানে রাখা হয়েছে বাক্স। সেখানে চিরকূটে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন চা বাগান শ্রমিকরা। সমাধানের আশ্বাস অভিষেকের।