শুনানিতে বিএলএ ২ নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত! এসআইআরে রাজ্য সরকারের ‘সহযোগিতা’ মানল কমিশন
প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। শনিবার এক বিএলও-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এসআইআর-এর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বলে মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা নকশালবাড়িতে। ঘটনার জন্য দায়ী করে বিএলও ও সুপারভাইজারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরাচ্ছে কমিশন।
এদিকে শুনানির সময় বিএলএ-২ কে ঢুকতে দেওয়ার দাবি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কমিশনের তরফে জানান হয়েছে। তবে, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে রাজ্যে সরকার সব রকমের সাহায্য করছে বলে জানিয়েছে কমিশন। নাহলে, এত বড় কর্মযজ্ঞ এত সহজে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেত না বলেই মনে করছেন কমিশনের কর্তা ব্যক্তিরা।
এসআইআর-কে কেন্দ্র করে ঘটনা বহুল শনিবার। প্রথম ঘটনাটি ঘটে কুচবিহারের বানেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। এক এক করে বুথের ৩৯ জনের শুনানির জন্য ডাক পড়েছে। কারও নাম বাদ গেলে তার দায় ঘাড়ে বর্তাবে না তো! কার্যত এই আশঙ্কায় ভুগছিলেন বানেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৩ নম্বর বুথের ৫৩ বছরের বিএলও আশিস ধর। আর সেই উৎকণ্ঠাই যেন কাল হল। শনিবার কোচবিহার দু’নম্বর ব্লক বিডিও কার্যালয়ে ছিল হিয়ারিংয়ের নির্দিষ্ট দিন। তার আগেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল আশিসবাবুর।
অন্যদিকে, এসআইআরের খসড়া তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কে মৃত্যু হল বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা অসীত কুন্ডুর। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার হিঙ্গলগঞ্জের কৃষি মান্ডিতে এসআইআর-এর খসড়া তালিকা সংক্রান্ত শুনানি ছিল অসীত কুন্ডুর। বেশ কিছু দিন ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে শুনানিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই সকাল দশটা নাগাদ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যু হয়। মৃতের ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এসআইআর-এর প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কই তাঁর বাবার মৃত্যুর কারণ।
আবার, এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন রিষড়ার ৮৫ বছরের বৃদ্ধ ধনঞ্জয় চতুর্বেদী। আগামী ৪ জানুয়ারি ছিল শুনানির দিন। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। সকালে রিষড়া মাতৃসদনে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।
জানা গিয়েছে, নকশাল বাড়ির খয়েরবাড়ি বিডিও অফিসে শুনানির জন্য চল্লিশ জনকে ডাকার কথা ছিল। কিন্তু ভুলবশত ১৬৯ জনকে ডাকা হয়। শুনানিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা শুরু হয় এলাকায়। বিষয়টি নজরে আসতেই শুনানি বন্ধের নির্দেশ দেয় কমিশন। ঘটনার জন্য বিএলও সুপারভাইজারকে কারণ দর্শাতে হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। শুনানির সময় কোনও ব্যক্তি জমি বাড়ির দলিল নিয়ে এলে তা আপলোড করে দেওয়া হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।