সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে যোগ দেবেন না! ঘোষণার এক দিন পর স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি অনিকেত মাহাতোর
আনন্দবাজার | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
সিনিয়র রেসিডেন্ট (এসআর) পদে যোগ দিতে ইচ্ছুক নন। শনিবার এই মর্মেই পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি দিলেন অনিকেত মাহাতো। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তাঁর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ থেকে অব্যহতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হল স্বাস্থ্য দফতরকে। তবে চিঠির পরতে পরতে তিনি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছিলেন। অনিকেতের দাবি, কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে বহাল করা হয়নি। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
শনিবারের চিঠিতে অনিকেত উল্লেখ করেছেন, মেধার ভিত্তিতে তিনি আরজি করে অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও তাঁকে ওই হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাঠিয়ে দেওয়া হয় রায়গঞ্জে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে মনে করেন অনিকেত। তার পরে শুরু হয় রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই। হাই কোর্ট ঘুরে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি জয় হয় অনিকেতেরই। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আরজি করেই অনিকেতকে পোস্টিং দিতে হবে।
অনিকেত চিঠিতে দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশের পরেও নিয়োগপত্র হাতে পাননি তিনি। তাই আর তিনি চান না সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে থাকতে। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ওই পদ থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন অনিকেত। তাঁকে যেন ভবিষ্যতে কোনও প্রশাসনিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়, সে দিকটাও দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে অনিকেত বলেছিলেন, আমি মনে করি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে রাজ্য সরকার আমার ডাক্তারি জীবনকে সত্যিকারের খুনের মতো পদক্ষেপের দিকে এগোতে চায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ যে আকার ধারণ করছে, তা থেকে আমার মনে হয় রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে আমাকে যদি পোস্টিং দেয়, তাতেও ডাক্তার হিসাবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পারব না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই রাজ্য সরকারের অধীনে আমি এসআর-শিপ করতে চাই না।’’ তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে সরকার তাঁকে নিয়ে যা সিদ্ধান্তই নিক না-কেন এসআর-শিপ চান না।
অন্য দিকে, শনিবার সন্ধ্যায় ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে। তাতে একটি ছবিও জোড়া হয়। দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবশেষে অনিকেতকে আরজি করেই এসআর হিসাবে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। যদিও সেই চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরে অনিকেত নিজে সেই ‘নিয়োগপত্র’ পোস্ট করে জানান তিনি সরকারের তরফে কোনও চিঠি পাননি। তাঁর কথায়, ‘‘ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের কাছে আমি আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ ওই চিঠি সরকারি তরফেও কোনও সত্যতা এখনও পর্যন্ত মেলেনি। শনিবার রাত পর্যন্তও স্বাস্থ্য ভবনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কোনও এই সংক্রান্ত চিঠি নেই। আর আরজি করে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।