• জোড়া এনকাউন্টার, খতম ১৪ মাওবাদী
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • রায়পুর: নতুন বছরের শুরুতেই ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্য। ছত্তিশগড়ে বাহিনীর সঙ্গে দুটি পৃথক এনকাউন্টারে খতম অন্তত ১৪ মাওবাদী। প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার সকালে রাজ্য পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) বাহিনীর অভিযানে সুকমাতে ১২ ও বিজাপুরে  ২ জন মাওবাদীকে খতম করা হয়েছে। এদিকে, এদিন তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার বরসা দেবা ও তার সঙ্গীরা। বরসার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। বরসা মাধভি হিদমার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

    ছত্তিশগড় পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ দক্ষিণ সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ঘাঁটিতে হানা দেয় বাহিনী। সেই সময় বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাওবাদীরা। পালটা জবাব দেয় পুলিশও। শুরু হয় গুলির লড়াই। এনকাউন্টার থামার পর ১২ মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, বিজাপুরেও ভোর ৫টা নাগাদ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। সেখানেও বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু করে মাওবাদীরা। এই ঘটনায় দুই মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। দু’ জায়গাতেই তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃত মাওবাদীদের কাছ থেকে একে ৪৭, ইনসাস সহ একাধিক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলি বিনিময়ে মৃত্যু হয়েছে মাওবাদী নেতা সচিন মাংগদুর। এদিকে শনিবারই আত্মসমর্পণ করেছেন মাওবাদীদের পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি ব্যাটালিয়ন ১-এর শীর্ষ কমান্ডার বরসা দেবা ওরফে বরসা সুক্কা ও তার সঙ্গীরা। মাদভি হিদমার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বরসা দেবা।

    গত নভেম্বরে অন্ধ্রপ্রদেশে গুলি বিনিময়ে মৃত্যু হয় হিদমার। তারপরেই ব্যাটালিয়ন-১ এর প্রধান হন বরসা। ২০০৩ সালে মাওবাদীদের সশস্ত্র অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। নিষিদ্ধ এই সংগঠনের একাধিক বড় হামলার সঙ্গে যোগ রয়েছে বরসার। ২০১৩ সালে ঝিরাম ঘাঁটিতে কংগ্রেসের কনভয়ে হামলা (মৃত ২৭ নেতা), ২০০৬ সালের সুকমাতে আইডি বিস্ফোরণ (মৃত ২৫), ২০১০ সালে দান্তেওয়ারায় বিস্ফোরণ (শহিদ ৩০ পুলিশ কর্মী), ২০১৯ সালে বিজেপি নেতা খুন সহ মোট ১২১টি খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বরসা। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল মোট ১ কোটি টাকা। এদিন তেলেঙ্গানার ডিজিপি শিবাধার রেড্ডির কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশের হাতে তুলে দেন ৪৮টি লাইট মেশিন গান ও নগদ ২০ লক্ষ টাকা।
  • Link to this news (বর্তমান)