• বিজেপিকে দেখে আরএসএসকে বিচার করলে ভুল হবে: ভাগবত, ‘সংঘ কোনও আধাসামরিক বাহিনী নয়’
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • ভোপাল (পিটিআই): ‘উর্দি আছে। শারীরিক কসরতের অনুশীলনও হয়। কিন্তু তাই বলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কোনও আধাসামরিক বাহিনী নয়।’ ভোপালের এক সভায় একথা বললেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। আর এই সভা থেকেই স্বয়ং সরসংঘচালকের আরও একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র বিজেপির দিকে তাকিয়ে সংঘকে বিচার করলে মস্ত ভুল হবে।’ জনসংঘ ও তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি বিজেপির ‘মতাদর্শগত অভিভাবক’ বলেই পরিচিত আরএসএস। তাহলে কেন আচমকা খোদ ভাগবতের কণ্ঠে এমন সুর? নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিজেপির কাজকর্মে কি অসন্তুষ্ট আরএসএস প্রধান? সেই কারণেই সচেতনভাবে তাঁর এই দূরত্ব তৈরির চেষ্টা—এ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি অবসরগ্রহণের বয়স থেকে মণিপুর ইস্যু, এমনকী হালফিলে বড়দিনের উৎসবে দেশজুড়ে গেরুয়া হিংসার ঘটনায় আরএসএস প্রধানের বিরুদ্ধমত সামনে এসেছে। সেই আবহেই বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যে এই বিভাজনরেখা টানার চেষ্টা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

    আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে গোটা দেশে সফর করছেন ভাগবত। সেই সূত্রেই বর্তমানে তিনি ভোপাল সফরে। সেখানে শুক্রবার বিদ্বজনদের এক সভায় আত্মনির্ভরতার পক্ষে সওয়াল করেন ভাগবত। তিনি বলেন, ‘স্বদেশির অর্থ এটা নয় যে বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তবে যেসব ওষুধ ও অন্য জরুরি পণ্য দেশে উৎপন্ন হয় না, শুধু সেগুলিই আমদানি করা 

    উচিত। কোনওরকম চাপ বা শুল্কের জুজু দেখিয়ে বাণিজ্য কখনওই ঠিক নয়। বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ধারিত হওয়া উচিত আমাদের নিজেদের শর্তে।’ সরসংঘচালকের আরও বক্তব্য, ‘আরএসএস কর্মীরা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেন। সমাজে প্রয়োজনীয় গুণাগুণ ও ন্যায়নিষ্ঠা সঞ্চার করেন—যাতে ভারত ফের কোনও বিদেশি 

    শক্তির দখলে চলে না যায়।’ আর এর পরই বিজেপির সঙ্গে বিভাজনরেখা টেনে সেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ভাগবত। বলেন, ‘আপনারা যদি বিজেপির দিকে তাকিয়ে সংঘকে বুঝতে চান, তাহলে মস্ত ভুল হবে। বিদ্যাভারতীকে (আরএসএস অনুমোদিত সংগঠন) দেখে বিবেচনা করতে চাইলেও একই ভুল হবে।’

    ভোপালের অনুষ্ঠান থেকেই আরও একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন ভাগবত। বলেন, ‘সংঘের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। সঠিক তথ্য জানার জন্য আজকাল মানুষ আর গভীরে যান না। গোড়ায় না গিয়েই তাঁরা উইকিপিডিয়ায় চোখ রাখেন। সেখানে সবটা সত্যি নয়। বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে যাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেন, তাঁদের আরএসএস সম্পর্কে জানতে সমস্যা হবে না। ভ্রান্ত ধারণার মোকাবিলা করতেই আরএসএসের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। কোনও প্রতিক্রিয়া বল বা কোনও কিছুর বিরোধিতার জায়গা থেকে সংঘের জন্ম হয়নি। সংঘ কারও 

    সঙ্গে প্রতিযোগিতাও করে না।’ আরএসএস প্রধানের দাবি, ‘রাজনৈতিক দাসত্ব থেকে মুক্তি মিললেও কিছু থেকে এখনও মানসিক দাসত্ব থেকে গিয়েছে। তাকে বিনাশ করতে হবে আমাদের।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)