• চলতি বছরে ৬ রুটে বন্দে ভারত স্লিপার চলার ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুধুই হাওড়া-গুয়াহাটি রুট নয়। নতুন বছরে আরও ১০টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন হবে। অর্থাৎ, আপ-ডাউন মিলিয়ে নতুন মোট পাঁচটি রুটে চলবে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেন। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ৭৯ শতাংশ রেল লাইনের ‘আপগ্রেডেশন’ হয়ে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনের আগেই শনিবার ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নতুন বছরের প্রথম দিনেই রেলমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হবে হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে। আগামী ১৭ কিংবা ১৮ জানুয়ারি এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। শনিবার নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মে এই ‘স্লিপার’ ট্রেনের রেক পর্যবেক্ষণ করেছেন বৈষ্ণব।  ঘটনাচক্রে ৬ বছর আগে ২ জানুয়ারি এই নিউদিল্লি স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মেই প্রথম বন্দে ভারত চেয়ার কারের ‘‘ইনস্পেকশন’ করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।

    শনিবার নিউদিল্লি স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে উঠে এর থার্ড এসি কোচ, সেকেন্ড এসি কোচ এবং ফার্স্ট এসি কোচ—প্রতিটি শ্রেণিরই যাত্রী বন্দোবস্তই খতিয়ে দেখেন তিনি। এমনকী থার্ড এসি কোচের মধ্যে ল্যাডারে চেপে আপার বার্থেও ওঠেন। বোঝার চেষ্টা করেন, আপার কিংবা মিডল বার্থে ওঠার সঙ্গে ল্যাডারের উচ্চতা মানানসই কি না। মন্ত্রীর সঙ্গেই ছিলেন রেলের আধিকারিকরা। তাঁদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন রেলমন্ত্রী। পরে তিনি ঘুরে দেখেছেন বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের লোকো পাইলটের কেবিনও। 

    অন-বোর্ড শয়নযান বিশিষ্ট বন্দে ভারত ট্রেনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের হাল ঠিক কীরকম? শনিবার নতুন এই স্লিপার ট্রেনে উঠে দেখা গেল, এর থার্ড এসি এবং সেকেন্ড এসি কোচের করিডর অত্যন্ত চাপা। অন্তত একজনকে পাশ কাটিয়ে অন্যজনের এগিয়ে যাওয়া রীতিমতো সমস্যাজনক। তবে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের আসন রাজধানী, দুরন্ত সহ অন্যান্য যেকোনও দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি আরামদায়ক। দু’টো সিটের মধ্যবর্তী জায়গাও তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত। রেল সূত্রের ব্যাখ্যা, দু’টো সিটের মধ্যবর্তী স্থান ‘প্রশস্ত’ করতে গিয়ে করিডর সামান্য ‘চাপা’ হয়ে থাকতে পারে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ফার্স্ট এসি কোচে আলাদা স্নানের ব্যবস্থাও রয়েছে। বাথরুম এবং প্রতিটি শৌচালয়ের দরজাতেই ‘ইন্ডিয়ান স্টাইল’ এবং ‘ওয়েস্টার্ন স্টাইলে’র উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি কোচের সংযোগকারী যে ‘ভেস্টিবিউল’ দরজা, তা রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে। এব্যাপারে কোচ অ্যাটেনডেন্টকেই যাবতীয় দায়িত্ব নিতে হবে। দৃষ্টিশক্তি না থাকা যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের ভিতরে বিভিন্ন নির্দেশিকা এবং সিট নম্বর ব্রেইল পদ্ধতিতেও লেখা হয়েছে। প্রতিটি কোচেই রয়েছে চমকপ্রদ আলোর ব্যবহার। কোচ অ্যাটেনডেন্ট কিংবা অন্য অন-বোর্ড রেলকর্মীদের জন্যও আলাদা আসনের ব্যবস্থা রয়েছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)