• জিতলে ৩০০ টাকা হবে দৈনিক মজুরি, আশ্বাস সাংসদের, ‘মুশকিল আসান’ অভিষেক
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: পুরোদস্তুর রাজনৈতিক জনসভার মঞ্চ নয়। একেবারে চা শ্রমিকদের দরবারে সটান হাজির তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মাঝেরডাবরি চা বাগানের দমনপুর আউট ডিভিশনের মাঠে ‘র‌্যাম্প’-এর চারদিকে হেঁটে চা শ্রমিকদের হাঁড়ির খবর নিলেন অভিষেক। ৪০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রমিকদের মুখ থেকেই শুনে নিলেন অভাব-অভিযোগের কথা। বাতলে দিলেন সমাধানের রাস্তাও।

    কালচিনির মহিলা শ্রমিক রীতা টেরিয়া। তিনি চিরকূট পাঠিয়ে অভিষেককে বলেন, স্বামী দুবাইতে থাকেন। এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হলেও তাঁর স্বামী কাজ ফেলে আসতে পারছেন না। কমিশনের লোক বলছে, না আসতে পারলে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবে। শুনে অভিষেক বলেন, চিন্তা নেই। ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে। রীতাদেবীকে সাহায্য করতে দলের লোকজনকে নির্দেশ দিলেন অভিষেক। হাসি ফুটল শ্রমিক রীতাদেবীর মুখে।

    পরের চিরকূট কালচিনির মধু বাগানের সুরেশ তুরির। অভিযোগ, তাঁর কোয়ার্টার ঠিক করে দেয় না বাগান কর্তৃপক্ষ। শুনে ওই শ্রমিককে আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, তাঁর পাট্টার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পরে চিরকূট পাঠিয়ে মধু বাগানের জয়প্রকাশ খাখার অভিযোগ, বাগানে স্বাস্থ্য পরিষেবা খারাপ। ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স নেই। 

    অভিযোগ শুনেই অভিষেক বলেন, চা বাগানগুলিতে ৫৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাজ চলছে। ডাক্তারদের নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি দেখছি। 

    শুধু চিরকূট নয়। অভিষেক মঞ্চে সরাসরি ডেকে নেন কুমারগ্রামের রহিমাবাদ চা বাগানের শ্রমিক রাজেশ ওরাওঁকে। তাঁর অভিযোগ, সাকুল্যে ২৫০ টাকা মজুরি। কবে বাড়বে? ওই শ্রমিককে আশ্বস্ত করে সাংসদ বলেন, ‘চা শ্রমিকদের মজুরি ৬৭ টাকা ছিল। আমরা ২৫০ টাকা করেছি। সেটা ৩০০ টাকা করার কথাও ভাবছি।’ এদিন শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে অভিষেকের এই আলাপচারিতার পর জেলার চা মহল্লায় খুশির হাওয়া। শ্রমিকরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অভিষেক তাঁদের সঙ্গে মিশে এভাবে কথা বলবেন। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মুখেও চওড়া হাসি। তৃণমূল জেলা সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইকের কথায়, আমাদের নেতা অভিষেক কাছ থেকে যেভাবে অভাব-অভিযোগ শুনলেন, সেটা আমাদের ও শ্রমিকদের কাছে অনেক বড় পাওনা। এর ফলে আমাদের পালে যে হাওয়া লেগেছে, বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত ধরে রাখতে আমরা মরিয়া।

    একুশের ভোটের পর থেকেই চা বলয়ে বিজেপির ভোট কমছে। পদ্ম ছেড়ে জোড়াফুলে ঝুঁকছেন চা শ্রমিকরা। একুশের বিধানসভার সঙ্গে চব্বিশের লোকসভার ফলাফল তুলনা করলেই সেটা পরিষ্কার। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, চা বলয়ে তৃণমূলের পালে আরও হাওয়া লাগবে। যা ছাব্বিশের ভোটের আগে নিশ্চিতভাবে বিজেপি নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)