বন্ড মালিকরা নিতে আগ্রহী নন, হিমঘরের বাইরে পচে যাচ্ছে আলু
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বন্ড মালিকরা নিতে আগ্রহী নন। ফলে হিমঘরের বাইরে পচে যাচ্ছে প্যাকেটবন্দি আলু। হিমঘরে রাখা আলু কেজি প্রতি এক টাকা দরেও কিনতে আগ্রহী নন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, উত্তরবঙ্গে নতুন আলু উঠে গেলে কেউ আর পুরনো আলু খেতে চান না। ফলে বাজারে বিক্রি হয় না ওই আলু। এই পরিস্থিতিতে হিমঘরের ভাড়া ও শ্রমিক খরচ মিটিয়ে আলু বের করে কী লাভ! কোথায় বিক্রি হবে! যার কারণে হিমঘর থেকে আলু বের করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না বন্ড মালিকরা।
এদিকে, দিনের পর দিন ওই আলু চেম্বারে রেখে দিতে গিয়ে লোকসানের বহর বাড়ছে হিমঘর মালিকদের। ফলে হিমঘর কর্তৃপক্ষ আলুর প্যাকেট ‘চেম্বার’ থেকে বের করে শেডের নীচে রেখে দিয়েছে। হিমঘর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বন্ড মালিকদের বারবার ফোন করে আলু নিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ বন্ড মালিক ফোন ধরছেন না। যাঁরা ফোন রিসিভ করছেন, তাঁদের অনেকের বক্তব্য, বাজারে পুরনো আলুর চাহিদা নেই। ফলে তাঁরা হিমঘর থেকে আলু নিতে রাজি নন। এই অবস্থায় আলুচাষি, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চরম বিপাকে হিমঘর মালিকরা। কারণ, এক প্যাকেট আলুর (৫০ কেজি) হিমঘর ভাড়া ৯৩ টাকা। সঙ্গে রয়েছে হিমঘরের চেম্বার থেকে আলু বের করার শ্রমিক খরচ। সবমিলিয়ে এক প্যাকেট আলু হিমঘর থেকে বের করতে বন্ড মালিকদের কাছ থেকে ১১২ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু তা পাচ্ছে না হিমঘর কর্তৃপক্ষ। বাংলার আলু কিনতে চাইছে না বিজেপি শাসিত অসম। বিহার, উত্তরপ্রদেশেও উত্তরবঙ্গ থেকে আলু যাচ্ছে না।
হিমঘর মালিকদের সংগঠনের দাবি, গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ৯৪টি হিমঘরে প্রায় চার লক্ষ প্যাকেট আলু মজুত ছিল। গোটা উত্তরবঙ্গে এখনও লক্ষাধিক প্যাকেট আলু রয়ে গিয়েছে হিমঘরে। এই আলু কী হবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। হিমঘরে মজুত থাকা আলু সরকারকে ন্যায্যমূল্যে কিনে নিতে হবে বলে দাবি তুলেছে সিপিএম।
কৃষি বিপণন দপ্তরের জলপাইগুড়ির এক আধিকারিকের অবশ্য দাবি, উত্তরবঙ্গ থেকে হিমঘরের আলু দক্ষিণবঙ্গে যাচ্ছে। সুতরাং মোটেই খুব বেশি আলু মজুত নেই কোল্ড স্টোরেজে।
যদিও ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নর্থ বেঙ্গল রিজিওনাল কমিটির সম্পাদক মনোজ সাহার দাবি, উত্তরবঙ্গের ৯৪টি হিমঘরে এখনও লক্ষাধিক প্যাকেট আলু রয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে সেই আলু শেডের নীচে নামিয়ে দিতে হচ্ছে। বন্ড মালিকদের আলু নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হলে তাঁরা জানিয়ে দিচ্ছেন, হিমঘরের ভাড়া দিতে পারবেন না। এই অবস্থায় হিমঘরের শেডের নীচে আলু পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ধূপগুড়ি আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাবলু চৌধুরীর অভিযোগ, নতুন আলু উঠে গিয়েছে। যার কারণে পুরনো আলুর বাজার নেই উত্তরবঙ্গে। ফলে হিমঘর থেকে কেউ আলু নিতে চাইছেন না। হিমঘর থেকে যাওয়া আলু গোরুকে খাইয়ে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই। • নিজস্ব চিত্র।