নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগে গণ্ডগোলের সৃষ্টি হল শিলিগুড়িতে। এবারে অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ির শক্তিগড় গার্লস হাইস্কুলের বিরুদ্ধে। গণ্ডগোল ও বচসা থেকে এদিন রীতিমতো পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। শেষ পর্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে ১৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে বিক্ষোভে ইতি টানে এনজেপি থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
শনিবার সকালে আচমকা শক্তিগড় গার্লস হাইস্কুলের গেটে ভিড় জমাতে শুরু করেন অভিভাবকদের একাংশ। গেটের বাইরে থেকেই তাঁরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, ভর্তির জন্য ২৪০ টাকা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নেওয়ার কথা থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। যদিও ৫০০ টাকার রসিদের পরিবর্তে ২৪০ টাকার রসিদ দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের তরফে ভালো ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ।
অভিভাবকদের এই আন্দোলনে পরবর্তীতে যোগ দেয় একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। এরপরেই বিক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। ঘটনার খবর পেয়ে এনজেপি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছয়। এরপরেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। বারবার তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা আরও বেশি করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে মহিলা পুলিশ কর্মীদের ডেকে পাঠায় এনজেপি থানার পুলিশ। মহিলা পুলিশ বাহিনী উইনার্সের কর্মীদের ধাক্কা মারা হয় বলেও অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা এরপর স্কুলের সামনে বসে পড়ে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ তাঁদের সরানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা নিজেদের দাবি থেকে সরতে চাননি। এরপরেই বাধ্য হয়ে মহিলা পুলিশ কর্মীরা টেনে হিঁচড়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের মধ্যে ১৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এনজেপি থানার পুলিশ। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এপ্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, স্কুলের বাইরে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালাচ্ছিল। আমাদের কর্মীদের কয়েক জনকে বিক্ষোভকারীরা ধাক্কা দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছিল। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত করছি। যদিও এই ঘটনা নিয়ে শক্তিগড় গার্লস হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি কৌশিক দত্ত বলেন, আমরা ভর্তির জন্য ২৪০ টাকা করে নিচ্ছি। বাকি টাকা সরস্বতী পুজো, ব্যাজ, বেল্টের জন্য নেওয়া হচ্ছে।