নতুন টিআইসির দু’হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ, জখম আরও এক শিক্ষক, প্রাক্তন টিআইসি, শাসকদলের নেতা সহ ১১ জনের নামে এফআইআর
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: মাদ্রাসার টিআইসি ও সহকারী শিক্ষককে মারধর করে দু’হাত ভেঙে দেওয়া এবং মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রাক্তন টিআইসি ও শাসকদলের যুব নেতার দাদার বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের তালগাছি সিনিয়ার মাদ্রাসার ঘটনা। আহত টিআইসি মহম্মদ হেবজুর রহমান ও সহকারী শিক্ষক আবজাল হোসেনকে প্রথমে মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই ওই দুই শিক্ষকের চিকিত্সা চলছে।
এই ঘটনায় মাদ্রাসার প্রাক্তন টিআইসি মহম্মদ আবুজার ও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি মণিরুল ইসলামের দাদা আনারুল আলম সহ মোট ১১ জনের নামে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এবিষয়ে কোরিয়ালি সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তারক মণ্ডল বলেন, আমাকে এই ঘটনার কথা কেউ বলেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা খুবই নিন্দনীয়।
সূত্রের খবর, মিড ডে মিলের হিসাব ও মাদ্রাসার অন্যান্য ফান্ডের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে গত ১৩ ডিসেম্বর আবুজারকে সরিয়ে নতুন টিআইসি করা হয় হেবজুরকে। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের সম্মতিক্রমে তাঁকে টিআইসির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রাক্তন টিআইসি তা মেনে নিতে পারেননি। তিনি শাসকদলের সমর্থক। এদিন দুপুরে প্রাক্তন টিআইসি শাসকদলের দলবলকে ডেকে এনে নতুন টিআইসির উপর চড়াও হয়। অফিস রুম থেকে হেবজুরকে টেনেহিঁচড়ে বের করে একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখা হয়। রড ও বাঁশ দিয়ে মারধরও করা হয়। নতুন টিআইসির দুই হাত ভেঙেছে। মারধর করে স্কুলের খালি লেটার প্যাডে নতুন টিআইসির সই করিয়ে নেওয়া হয়। মোবাইলে স্বীকারোক্তি করিয়ে নেওয়া যে, হেবজুর স্বেচ্ছায় টিআইসি পদ ছেড়ে দিতে রাজি। সহকারী শিক্ষক আবজাল টিআইসিকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।
আক্রান্ত টিআইসির অভিযোগ, প্রাক্তন টিআইসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শাসকদলের কয়েকজন নেতা কর্মীর মদতে মাদ্রাসায় দুর্নীতি করতেন তিনি। আড়াই মাস আগে তাঁকে টিআইসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি পদ ছাড়তে চাননি। হেবজুর বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর আমাকে টিআইসির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর শাসকদলের আনারুল সহ তার দলবল আমার কাছে আড়াই লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে এদিন প্রাক্তন টিআইসির ষড়যন্ত্রে মারধর করে আমার দুই হাত ভেঙে দেয়। জোর করে সাদা লেটার প্যাডে সই করিয়ে নেয়। টিআইসি পদ ছাড়তে বলে। ফোন না তোলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন টিআইসি আবুজার ও আনারুলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মেসেজেরও উত্তর দেননি তাঁরা। আনারুলের ভাই তথা তৃণমূল ব্লক যুব সভাপতি মণিরুল বলেন, টিআইসি স্কুলে নিয়মিত আসেন না। এখনও রেজাল্ট দেননি। এই কথা বলতে গিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র