সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরে ফাঁকা বাড়িতে ফের চুরি। এবারে ফাঁকা বাড়িতে চুরির আগে পাশের বাড়িগুলির গেট আটকে দেয় দুষ্কৃতীরা। তারপর ওই ফাঁকা বাড়িতে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার রাতে সেই বাড়ির আলমারি ভেঙে কয়েক হাজার টাকা, সোনার গয়না এবং রুপোর মূর্তি চুরি গিয়েছে। এই ঘটনায় বালুরঘাট শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুকুর এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। বালুরঘাট শহরে বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। পুলিশও চুরি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় চিন্তায় শহরবাসী। দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্র বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওই বাড়ির মালিক সুমিত রায়। তিনি কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তাঁর স্ত্রী রুবি দাস রায় দিন কয়েক আগে কলকাতায় গিয়েছেন। কয়েক দিন বাড়ি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে টাকা, গয়না নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা।
কিন্তু চুরি করার ধরন দেখে অবাক প্রতিবেশীরা। চুরি করার আগে সুমিতের প্রতিবেশীদের বাড়ির গেটের ছিটকিনি বন্ধ করে দেয় দুষ্কৃতীরা। যাতে চুরির ঘটনা টের পেলেও প্রতিবেশীরা বের হতে না পারেন।
সুমিতের আত্মীয় জ্যোত্স্না দাস বলেন, বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে এই চুরি। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সুমিতের প্রতিবেশী রবিন সরকার বলেন, আমাদের বাড়ির বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকে দেওয়া হয়েছিল। যাতে আমরা বের হতে না পারি। টের পেয়ে আরেকজনকে ফোন করি। তারা এসে বাড়ির গেট খুলে দেয়।
বালুরঘাট শহর ও সংলগ্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে চুরির ঘটনা সামনে আসছে। মাসখানেক আগে বালুরঘাটের চকভৃগু বিবেকানন্দ ক্লাব এলাকায় এক সেনা জওয়ানের বাড়িতে চুরি হয়। পরে বোল্লা মেলার সময় রঘুনাথপুর এলাকায় একই কায়দায় সোনার গয়না চুরি হয়। বালুরঘাট শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এলাকায় একটি মন্দিরেও চুরি হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর শহরের নামাবঙ্গীতেও চুরির ঘটনা ঘটে। পরপর চুরির ঘটনায় আতঙ্কে শহরবাসী। নিজস্ব চিত্র