• পাঁচ বছরে কেল্লাফতে, ১৭৫ টাকার লটারির টিকিটে কোটিপতি বিষ্ণুপুরের সবজি ব্যবসায়ী
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আলু, পেঁয়াজ বেচেই কোনওমতে সংসারটা চলে। তবে নেশার মধ্যে সবজি ব্যবসায়ী মাঝেমধ্যেই লটারির টিকিট কাটতেন। কিন্তু পাঁচবছর ধরে টিকিট কেটেও বিষ্ণুপুরের সৌমেন রায় ওরফে রাজুর  ভাগ্যের শিঁকে ছেড়েনি। তবে ভাগ্যের চাকা যে ঘুরছে, শুক্রবার নিজের জীবনে তারই একেবারে হাতেগরম প্রমাণ পেলেন সৌমেনবাবু। ১৭৫ টাকার লটারির টিকিট কিনে করলেন কেল্লাফতে। জিতলেন এক কোটি টাকা। কোটিপতি হয়ে সবজি ব্যবসায়ীর বক্তব্য, লটারির টাকায় বাড়ি তৈরির পাশাপাশি ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব।  

    বিষ্ণুপুর স্টেশন রোডে আটচালা মোড়ে আলু, পিঁয়াজের দোকান রয়েছে সৌমেনবাবুর। তিনি জানান, মাঝে মধ্যেই তিনি লটারির টিকিট কাটতাম। লটারিতে অনেক টাকা চলে গিয়েছে। ধার, দেনাও হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার  কপাল খুলে গেল। মোট ১৭৫ টাকার টিকিট কেটে ১ কোটি টাকা জিতেছি। সৌমেনবাবু ও তাঁর পরিবারে এখন খুশির হাওয়া। 

    ওই সবজি ব্যবসায়ী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় লটারির খেলা ছিল। তার কিছুক্ষণ বাদে টিকিটের ডিলার নিজেই আমাকে ফোন করে ১ কোটি টাকা জেতার খবর দেন। পাঁচ বছর ধরে লটারি কাটছি। কোনও পুরস্কার জোটেনি। তাই প্রথমে বিশ্বাস করিনি। পরে মোবাইলে মিলিয়ে দেখার পর বিশ্বাস হয়। এবার বাজারের ধার, দেনাগুলি মেটাব। তারপর একটি বাড়ি বানানোর ইচ্ছে রয়েছে। এছাড়াও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করতে হবে। 

    সৌমেনবাবু প্রতিদিন সকালে দোকান খোলেন ও দুপুরে বাড়ি চলে যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে থাকাকালীন লটারিতে কোটি টাকা জয়ের খবর পান তিনি। শনিবার সকালে সেই খবর বিষ্ণুপুরে চাউর হয়।  সৌমেনবাবু এদিন সকালে কিছু সময়ের জন্য দোকান খোলেন। বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করে পরিচিতরা তাঁর দোকানে ভিড় জমাতে থাকেন। তবে একের পর এক পরিচিতের ফোন এবং শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে তিনি এদিন  সকালেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। সৌমেনবাবুর বাবা সত্যরঞ্জন রায় বলেন, সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছিল। তাই শুক্রবারই আমি ও আমার স্ত্রী দু’জনে মিলে আসানসোলে কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলাম। সেখানেই সুখবরটা পাই।  সন্ধ্যাতেই ছেলে ফোন করে লটারি জেতার খবর জানিয়েছে। শনিবার ভোরেই আমরা গাড়িতে করে বাড়ি ফিরে এসেছি। সৌমেনবাবুর স্ত্রী সুতপা রায় বলেন, স্বামীর বাজারে অনেক ধার,দেনা হয়ে গিয়েছিল। তবে 

    ঠাকুর মুখ তুলে চেয়েছেন। ভীষণ খুশি হয়েছি। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)