উৎসবের মরশুমে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে পর্যটকের ঢল, ডিসেম্বরেই আয় ১০ লক্ষ টাকা
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: শালবনের মাঝে গড়ে উঠেছে আস্ত একটি চিড়িয়াখানা। সেখানে চিতাবাঘ বাঁশের মাচায় রোদ পোহায়। পরিখা ঘেরা জায়গায় ভাল্লুক ঘুরে বেড়ায়। চিতল হরিণ, নীল গাই দলবেঁধে ছোটাছুটি করে। ঘন ঝোপঝাড় থেকে হঠাৎ বের হয়ে আসে নেকড়ে। ঝাড়গ্রামে জুলজিক্যাল পার্ক এখন বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জুলজিক্যাল পার্কে প্রায় ৪৮ হাজার পর্যটক এসেছেন। গত একমাসে ১০ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত পার্ক কর্তৃপক্ষ।
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, জুলজিক্যাল পার্ক এখন জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল। বহু পর্যটক এখানে আসছেন। আগামী দিনে পার্কের পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঝাড়গ্রাম শহরলাগোয়া ধবনী বিটে জুলজিক্যাল পার্ক রয়েছে। সেখানে পর্যটকের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৭২৫জন পর্যটক পার্কে বেড়াতে এসেছেন বলে জানা গিয়েছে। বছরের শেষে ডিসেম্বরেও প্রত্যাশাছাপিয়ে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছেন। পর্যটক টানতে জুলজিক্যাল পার্কে আরও বন্য পশুপাখি আনা হয়েছে। সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যে পার্কে বাহারি জাতের ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে সেখানে ভিড় জমাচ্ছে। চিতাবাঘ ‘পলাশ’, পূর্ণবয়স্ক ভাল্লুক ‘বল্লু’, লেপার্ড ক্যাট, গ্ৰে প্যারট, কাকাতুয়া, সজারু এবং গোখরো, চন্দ্রবোরা, পাইথন সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দেখতে এনক্লোজারের সামনে সবসময় পর্যটকের ভিড় জমছে। পার্কের ভিতরে সৃষ্টিশ্রী স্টলে ঘরোয়া জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। ক্যান্টিনে পাওয়া যাচ্ছে চা, কফি, স্ন্যাকস। পার্কের ভিতরে বসার জায়গা রয়েছে। ঘোরার ফাঁকে পর্যটকরা সেখানে খানিকক্ষণ জিরিয়ে নিচ্ছেন। ২৬ লক্ষ টাকা খরচে অত্যাধুনিক টয়লেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই অনলাইনে পার্কের টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, গত একবছরে পার্কে চিতা বাঘ, ভাল্লুকের পাশাপাশি নানা প্রজাতির পাখি আনা হয়েছে। পার্কে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও কুমির আনার পরিকল্পনা চলছে। পরিকাঠামো ঢেলে সাজতেই পার্কে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পার্কের ৯ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা ১০ লক্ষ পার করে গিয়েছে।
শনিবার ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা পুলক দে। তিনি বলেন, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে প্রথমবার এলাম। পার্কটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। মনে হচ্ছিল, যেন জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের অবাধে ঘুরতে দেখছি। পার্কের পশুপাখিদের দত্তক নেওয়ার কথা জানতে পারি। আগামী দিনে কোনও পশু, পাখি দত্তক নেওয়ার কথা ভাবছি। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, জুলজিক্যাল পার্ককে কেন্দ্র করে অরণ্য শহরের হোটেল, রিসর্ট, লজ ব্যবসার প্রসার ঘটছে। শীতের মরশুমে জেলাজুড়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছেন।