• ১৯৭১-এর নথি হাতে শুনানি কেন্দ্রে গেলেন মন্তেশ্বরের বৃদ্ধা
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ১৯৭১ সালের নথি হাতে মন্তেশ্বর ব্লকের শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন সন্ধ্যারানি মোদক। শনিবার জমির দলিল, ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকা হাতে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু এসব দেখেও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের ‘সন্দেহ’ দূর হয়নি। ৭৮ বছরের বৃদ্ধাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আবার শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। পারলে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জোগাড় করুন। নোটিস পাওয়ার পর থেকে বৃদ্ধা আতঙ্কে ছিলেন। শুনানি কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়ায় ভয় আরও চেপে বসেছে। পরিবারের লোকজন বলছেন, এই বয়সে এসে এভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, সেটা তিনি কোনওদিন ভাবেননি। বারবার সেকথা বলে চলছিলেন। আর কোন কাগজ থাকলে নির্বাচন কমিশনের সন্দেহ দূর হবে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকায় যাঁর নাম রয়েছে, তিনি আর যাই হোক ‘রোহিঙ্গা’ নন। সেটা তাঁদের বোঝা দরকার ছিল।

    সন্ধ্যারানির বাড়ি মন্তেশ্বর থানার কুসুমগ্রামে। ২০০২ সালে কোনও কারণে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ চলে যায়। তাঁর ছেলে পরেশনাথ মোদক বলেন, খাতায়-কলমে মায়ের জন্ম ১৯৪৭ সালে দেখানো হয়। কিন্তু তাঁর বয়স আরও বেশি। এই বয়সেও মাকে ঠান্ডার মধ্যে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হল। মায়ের নামে জমির দলিল রয়েছে। সে সবের গুরুত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। এখন ডোমিসাইল সার্ফিকেট জোগাড় করার জন্য বলা হয়েছে। আবার নাকি আসতে হবে। নির্বাচন কমিশন কী চাইছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বিএলও বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই পরিবারটিকে আমি চিনি। ওঁরা এখানকার আদি বাসিন্দা। নির্বাচন কমিশন এসব ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল করতে পারত। তাহলে শেষ বয়সে এসে বৃদ্ধাকে এতটা কষ্ট করতে হত না।

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের বয়স ৮৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের শুনানি বাড়িতে গিয়ে করা হচ্ছে। এদিনও জামালপুর ব্লকের অঝাপুর পঞ্চায়েতের নবগ্রামের এক ভোটারের বাড়িতে আধিকারিকরা পৌঁছে যান। ৮৫ বছরের বৃদ্ধা শয্যাশায়ী। ঠিকমতো কথা বলার ক্ষমতাও তাঁর নেই। কমিশনের আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে নথি পরীক্ষা করেন। এক আধিকারিক বলেন, কেউ অসুস্থ থাকলে তাঁর বাড়ি গিয়েও শুনানি করা হচ্ছে। এদিন জামালপুরে ৪৫ বছরের অসুস্থ এক ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে শুনানি করা হয়। বিএলওরা তথ্য দিলেই তা খতিয়ে দেখে আধিকারিকরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে, সবার ক্ষেত্রে তা করা যাচ্ছে না। যাঁদের উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে, তাঁদের বয়স ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও শুনানি কেন্দ্রে লাইন দিতে হচ্ছে। ঠিক যেমন করতে হয়েছে মন্তেশ্বরের সন্ধ্যারানি মোদককে। শুধু একবার নয়, কমিশনকে সন্তুষ্ট করতে তাঁকে দ্বিতীয়বারও আসতে হতে পারে। এমন বার্তা দিয়েই তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)