বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে বদল ঘটালেন শাহ
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য বিজেপিতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কার্যত গুলিয়ে দিলেন অমিত শাহ। বর্ষশেষে টানা তিনদিনের সফরে এটাই প্রাপ্তি বলে বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের হাত থেকে রাজ্য সভাপতির ব্যাটন গত জুলাই মাসে শমীক ভট্টাচার্যের হাতে গিয়েছে। কিন্তু আদ্যন্ত ভদ্র-মার্জিত স্বভাবের শমীকবাবু এখনও পর্যন্ত রাজ্য কমিটি গড়তে পারেননি। সুকান্ত জমানায় উপেক্ষিত ‘আদি’ বিজেপি নেতা-কর্মীরা শমীক ভট্টাচার্যের দিকে তাকিয়ে আশায় ছিলেন, এবার হয়তো অপেক্ষার পালা শেষ হবে। কিন্তু এখনও বাস্তবে তা হয়নি। উল্টে দলের আরেক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কার্যত একঘরে করে দিয়েছিল পার্টিরই একাংশ। ফলে রাজ্য বিজেপির মূল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় তৈরি হচ্ছিল। গত বছরের শেষ দিনে দিলীপ ঘোষকে কাছে টেনে অমিত শাহ বোঝালেন, তাঁর কাছে কেউই অপরিহর্য নন। দলের প্রয়োজনে তিনি যে কাউকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তব হল, তারপর থেকেই বঙ্গ বিজেপির ক্ষমতার মূল অক্ষ বদলাতে শুরু করেছে। শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি একসারিতে উঠে এসেছেন দিলীপ ঘোষও। শাহ দিল্লি ফেরার পরদিনই দিলীপবাবুকে ডেকে আলাদা করে বৈঠক করেছেন শমীক। সল্টলেকের পার্টি অফিসে তাঁর জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা ঘর। এই অবস্থায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুঝিয়ে গেলেন, আসন্ন নির্বাচনে বাংলায় নির্দিষ্ট কাউকে মুখ হিসেবে তুলে ধরা হবে না। বরং চার-পাঁচজন বাঙালি নেতাকে সামনের সারিতে এগিয়ে দেবে গেরুয়া শিবির। শাহ আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তা হল, ‘দাদা’ ধরে বিধায়ক হওয়ার টিকিট মিলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে বিলি করা হবে পদ্ম প্রতীক। ফলে উড়ে এসে জুড়ে বসা কিংবা দলবদলুদের বিজেপি প্রার্থী হওয়া এবার কষ্টকর হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে কেন্দ্রের শাসক দলের বাংলা ইউনিটকে জোর ধাক্কা দিয়েছেন দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। তবে বাংলার মেঠো রাজনীতির ময়দানে তা কতটা লাভজনক হবে বিজেপির জন্য, তা নিয়ে সন্দিহান দলেরই একাংশ।