• শহরের ১০টি ডিভিশনেই এবার পৃথক সাইবার থানা, পরিকল্পনা লালবাজারের
    বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের সাইবার জালিয়াতির তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও আঁটসাঁট করতে এবার নয়া উদ্যোগ লালবাজারের। কলকাতা পুলিশের সব কটি ডিভিশনে এবার একটি করে সাইবার থানা তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মহিলা সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ভাঙড় ছাড়া প্রতিটি ডিভিশনেই রয়েছে বিশেষ উইমেন পুলিশ স্টেশন। এবার হোয়াইট-কলার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও শহরের ১০টি ডিভিশনে পৃথক সাইবার থানা তৈরি করা হবে। এনিয়ে ইতিমধ্যেই নবান্নে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে একটি অনুমোদন গিয়েছে। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অধীনে একটি সাইবার থানা রয়েছে। সেখানেই শহরের সমস্ত অভিযোগ জমা পড়ে। এছাড়াও জালিয়াতিতে খোয়া যাওয়া টাকা ব্লক এবং রিকভারি করার জন্য সবকটি ডিভিশনে রয়েছে সাইবার সেল। কিন্তু, সেখানে কেসের তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে পাকড়াও করার পরিকাঠামো নেই। সেই খামতি ঢাকতেই, নয়া উদ্যোগ বলে লালবাজার সূত্রে খবর। 

    সাইবার বিভাগ  সূত্রে খবর, ২০২৪ সালে শহরবাসী সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে মোট ২৭৯ কোটি টাকা খুইয়েছিলেন। এরপরেই আমূল বদলে ফেলা হয় সাইবার বিভাগের খোলনলচে। দপ্তরে আসে নতুন সফটওয়্যার। যা এআই নির্ভর ডিজিটাল অ্যারেস্ট সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ দমনে সক্ষম। ২০২৫ সালের শেষে সাইবার শিকারের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ আর্থিক হানি কমানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, এখনও গতবছরের প্রতারিত অর্থের অঙ্ক বেশ আশঙ্কাজনক। সিপি মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে সাইবার প্রতারণায় খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণ ২১০ কোটি। 

    সূত্রের খবর, এই পরিসংখ্যান মেলার পরই গোয়েন্দা ও সাইবার বিভাগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক করেন বাহিনীর প্রধান। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শহরের সব বড় সাইবার অপরাধের তদন্তে শুধুমাত্র একটি থানার উপর ভরসা করলে চলবে না। এতে মানুষের অভিযোগ করতেও যেমন সমস্যা, তেমনই তদন্ত প্রক্রিয়াও হয় সময়সাপেক্ষ। সাইবার বিভাগের এক কর্তা বলেন, মানুষ প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সাইবার সেলে (ডিভিশন ভিত্তিক) অভিযোগ করলেও, তার মূল তদন্ত করে লালবাজারের সাইবার থানা। উল্লেখ্য, এধরনের তদন্ত ন্যূনতম ইনসপেক্টর পদমর্যাদার অফিসাররাই করতে পারেন। কিন্তু, সাইবার সেলে কোনও ইনসপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার নেই। সেখানে দায়িত্ব সামলান একজন করে সার্জেন্ট পদমর্যাদার অফিসার। তদন্তে আরও গতি আনতে তাই সব ডিভিশনে থানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢেলে সাজানো হবে বাহিনীকেও। এ প্রসঙ্গে, সিপি বলেন, ‘‌আমরা কলকাতার প্রতিটি ডিভিশনে একটি করে সাইবার থানা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করছি, তাড়াতাড়িই অনুমোদন পাওয়া যাবে। এর ফলে জনসাধারণের অনেক সুবিধা হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)