হিঙ্গলগঞ্জে শুনানিতে হাজিরা দিতে যাওয়ার আগে আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধের
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হিঙ্গলগঞ্জের কৃষক মাণ্ডিতে এসআইআরের শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল বৃদ্ধের। তার আগেই মৃত্যু হল দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা অসিত কুণ্ডুর (৭০)। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই মারা গিয়েছেন অসিতবাবু। জানা গিয়েছে, বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় থাকতেন তিনি। ক’দিন আগে তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে। তারপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধ। পরিবারের বক্তব্য, শনিবার ছিল শুনানি, ফলে এদিন সকাল থেকেই মানসিক চাপ বাড়ে তাঁর। বেলা ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরনোর ঠিক আগে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। খানিক বাদেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অসিতবাবু। মৃতের বউমা বলেন, এসআইআরের শুনানি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই চিন্তায় ছিলেন শ্বশুরমশাই। তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন আমডাঙার গৃহবধূ পার্বতী সূত্রধর। তিনি আমডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন। আমডাঙার পূর্ব ধনিয়া গ্রামে বাড়ি পার্বতী সূত্রধরের। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পার্বতীদেবীর বাবার পদবিতে ত্রুটি থাকায় তিনি আন-ম্যাপিং হন। শুনানির নোটিস পেয়ে শনিবার হাজির হন আমডাঙা বিডিও অফিসে। লাইনে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকজন তাঁকে আমডাঙা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পার্বতীদেবীর স্বামী ভূপেন সূত্রধর বলেন, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই চিন্তায় ছিলেন স্ত্রী। এভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার দায় কমিশনের।
এদিকে, অশোকনগরের গুমা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ১৪৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা তারক সরকার (৭৫) শুক্রবার শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানিয়েছে, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, তারকবাবুর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। তারপরেও তাঁকে শুনানিতে ডেকে অসুস্থ করা হল। ফাইল চিত্র