বারুইপুরে হাঁটাচলায় অক্ষম বৃদ্ধাকেও যেতে হল শুনানিতে
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: লাঠিতে ভর দিয়ে শুনানিতে আসতে হল মানসিকভাবে অসুস্থ ও হাঁটাচলায় অক্ষম ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মণ্টু বসু দে-কে। অসুস্থতার কারণে কথাবার্তাও তেমন গুছিয়ে বলতে পারেন না তিনি। শনিবার বারুইপুর রাসমণি বালিকা বিদ্যালয়ে দেখা গেল এমনই চিত্র। এই ভোগান্তি নিয়ে রীতিমতো তিতিবিরক্ত মন্টুদেবীর ভাই তপন বসু। তিনি বলেন, ‘দিদি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর মধ্যেও শুনানিতে আসতে হল। এই দুর্ভোগের দায় কার?’ তবে শুধু মন্টুদেবী নন, বারুইপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৭২ বছরের উমা চক্রবর্তীকেও অসুস্থ অবস্থায় শুনানিতে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে এদিন।
বারুইপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের এসআইআর শুনানি শুরু হয়েছে রাসমণি বালিকা বিদ্যালয়ে। শনিবার এখানেই আসেন বারুইপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্য সেন কলোনির বাসিন্দা মন্টু বসু দে। কাউন্সিলার তাপস ভদ্র তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে আসার জন্য টোটো ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনি নিজেও ছিলেন শুনানির সময়। বৃদ্ধার ভাই তপনবাবু বলেন, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই দিদির। তাই দিদিকে শুনানিতে আসতে হয়েছে।’ ছেলের হাত ধরে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ বছরের বৃদ্ধা গঙ্গা সরকারকে। তাঁর ছেলে বলেন, ‘মা লাইনে ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না। শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও শুনানিতে আসতে হল। কাগজপত্র জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয়েছে। কেন বয়স্ক মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, কে জানে!’ তবে এদিন বারুইপুর প্রশাসন থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের যেসব বাসিন্দা শারীরিক সমস্যায় কাবু বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা, তাঁদের বাড়িতে গিয়েও শুনানির কাজ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএলও। নিজস্ব চিত্র