শাহজাহান বাহিনীর হাতে আক্রান্ত পুলিশ, সন্দেশখালিতে অভিযানে বাধা, ভাঙচুর গাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
বর্তমান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইডির পর এবার আক্রান্ত রাজ্য পুলিশ। ঘটনাস্থল সেই সন্দেশখালি। এক্ষেত্রেও কাঠগড়ায় শেখ শাহজাহানের অনুগামীরা। লোকজন জড়ো করে পুলিশকে আক্রমণের পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর, এমনকি দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে চলে বিক্ষোভও। পরে উর্দিধারীদের বিশাল বাহিনী ও র্যাফ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। শুক্রবার রাতে এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার হুলোপাড়া এলাকা। পুলিশকে আক্রমণের মাস্টারমাইন্ড শাহজাহানের শাগরেদ মুসা মোল্লা সহ ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় বয়ারমারি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ও উপপ্রধানের ভূমিকা রয়েছে বলেও আশঙ্কা করছে পুলিশ। তাই তাঁদেরও আটক করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শাহজাহানের অনুপস্থিতিতে সন্দেশখালি এলাকায় নতুন করে ‘জমি হাঙর’ বলে পরিচিত হয়েছে তাঁর শাগরেদ মুসা মোল্লা। কৃষিজমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে রাতারাতি ভেড়ি বানাত সে। কয়েকদিন আগে দখলদারির একটি মামলা দায়ের হয় বসিরহাট আদালতে। জমিতে ১৪৪ ধারা জারি হয়। অভিযোগ, আদালতের জারি করা নির্দেশও মানছিল না মুসা। তাই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ নোটিস জারি করে। মুসাকে স্থানীয় রাজবাড়ি ফাঁড়িতে হাজিরা দিতে বলা হয়। তারপরেও রাতের অন্ধকারে দখল করা সেই জমিতে অবৈধভাবে পাঁচিল তোলার কাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে মুসাকে ধরতে হুলোপাড়ায় অভিযান চালায় রাজবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশকে দেখামাত্রই অনুগামীদের ফোনে ডেকে সেখানে জড়ো করে মুসা মোল্লা। এরপরই চারদিক থেকে ঘিরে ধরে পুলিশের উপর হামলা চালায় মুসা ও তার দলবল। ইটবৃষ্টিতে জখম হন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী। চলে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরও। মুসাকে গ্রেপ্তার করা হলে, তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দলবল। এরপর দীর্ঘক্ষণ পুলিশকে আটকে রাখে তারা। খবর পেয়ে ন্যাজাট থানা থেকে বিশাল পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। জখম পুলিশকর্মীদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মিনাখাঁ হাসপাতালে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিল ইডি। বাড়ির সামনে ইডি আধিকারিকরা পৌঁছতেই ধীরে ধীরে সেখানে জড়ো হতে শুরু করে শাহজাহানের অনুগামীরা। মারমুখী অনুগামীদের হামলায় জখম ইডির তিন আধিকারিককে হাসপাতালে ভরতি করাতে হয়। সেই একই কায়দায় শুক্রবার রাতে ফের হামলার ঘটনা ঘটল রাজ্য পুলিশের উপর। এ নিয়ে সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশ নিজের মতো করে তদন্ত করবে।