‘জিতলে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি’, চা–শ্রমিকদের প্রতিশ্রুতি অভিষেকের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
সভা থেকে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি এখানে বারবার জিতেছে, কিন্তু মানুষের কথা মনে রাখেনি। অথচ তৃণমূল কংগ্রেস আলিপুরদুয়ারে নির্বাচনে হেরেছে, তবুও উন্নয়ন থেমে থাকেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় হেরে গিয়ে বিজেপি মানুষের হকের টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এটাই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মৌলিক পার্থক্য। তাই এবার নিজেদের অধিকার বুঝে আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি বিধানসভা আসনের পাঁচটিতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাতে হবে।
এদিন সভাস্থলে চা–শ্রমিকদের সমস্যার কথা জানার জন্য বিশেষ ফর্ম দেওয়া হয়। সেই ফর্মে লেখা অভিযোগ একে একে তুলে ধরে মঞ্চ থেকেই উত্তর দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষণ শেষে চলে যাওয়ার বদলে তিনি শ্রমিকদের প্রশ্ন শোনেন এবং প্রত্যেকটি সমস্যার বিষয়ে সমাধানের দিশা দেখান। এই উদ্যোগে আপ্লুত হন চা–শ্রমিকেরা।
মজুরি প্রসঙ্গে এক শ্রমিক দৈনিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবি জানালে অভিষেক স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের এক মাসের মধ্যেই চা–বাগান মালিক, শ্রমিক ও সরকারকে নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে। তিনি বলেন, ২৫০ টাকা মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন, তাই তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হবে। তাঁর কথায়, আগে বিজেপিকে শিক্ষা দিতে হবে, আর আলিপুরদুয়ারই হবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য।
চা–বাগানের শ্রমিকদের পাট্টা সংক্রান্ত প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পাট্টা অবশ্যই মিলবে। হয়তো একটু দেরি হবে, কিন্তু সরকার কথা দিলে তা পূরণ করবেই। তিনি বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার সময় চা–শ্রমিকদের দৈনিক পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৬৭ টাকা। গত ১৪ বছরে তা ধাপে ধাপে বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে এবং গত বছর তা ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে।