‘চিকেনস নেক’ করিডোরের সুরক্ষায় কোনও ফাঁক নয়! তিস্তার উপর তৈরি হবে চার লেনের নতুন সেতু
প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য , শিলিগুড়ি: ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে আরও একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। এবার তিস্তা নদীর উপর সেভক-এলেনবাড়ি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ১ হাজার ১৭২ কোটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হল। এই বিকল্প সেতু তৈরি হলে ঐতিহাসিক করোনেশন সেতুর উপর চাপ কমবে। যান চলাচল সহজ হবে। দার্জিলিং, সিকিম ও ডুয়ার্সে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। সেই সুবাদে জোয়ার আসবে উত্তরের পর্যটন শিল্পে। পাশাপাশি বাড়বে ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তাও।
জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এরপরেই নতুন বছরের শুরুতে ১ হাজার ১৭২ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ওই অর্থে নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত খরচ ইত্যাদি বহন করা হবে। জানা যাচ্ছে, সেভক করোনেশন সেতুর বিকল্প হিসেবে নতুন, চার লেনের সেতু নির্মাণ করা হবে। আর তা তৈরি হলে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরত্ব কমে আসবে। ফলে যাতায়াতের সময় অনেকটাই বাঁচাবে বলে আশা।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “এটি উত্তরবঙ্গের জন্য দারুণ খবর। তিস্তা নদীর উপর সেভক-এলেনবাড়ি নতুন সেতু নির্মাণের টেন্ডার প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে ঐতিহাসিক করোনেশন সেতুর উপর চাপ কমবে। যান চলাচল সহজ হবে। দার্জিলিং, সিকিম ও ডুয়ার্সের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত হবে।” তিনি জানান, চার লেনের সেতুটি নির্মাণ হলে ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের পরিকাঠামো অনেক শক্তিশালী হবে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ রক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভারতীয় সেনার তরফে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। চিকেনস নেক ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পাখির চোখ রয়েছে এই করিডরের উপর! বিশেষ করে তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে, অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক থাকে জঙ্গিদের। শুধু তাই নয়, গত কয়েকমাসে একাধিক সময় বাংলাদেশের একাধিক নেতার মুখে ‘চিকেনস নেকে’র কথা উঠে এসেছে। এমনকী চিনে গিয়ে সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্যেও উঠে আসে এই করিডরের কথা। স্বভাবতই দেশের নিরাপত্তায় দ্রুত সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সেভক সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ঐতিহাসিক করোনেশন সেতু অক্ষত রেখে বিকল্প সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সাংসদ বলেন, “দীর্ঘ ছয় বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর আমি অত্যন্ত খুশি আরও একটি স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। ঐতিহাসিক করোনেশন সেতুর স্থাপত্য বিস্ময়কর। সেটি অক্ষত রেখেই কাজ শুরু হবে।”