• ভোট টু প্রোটেস্ট! পদ্মকে ‘সবক’ শেখানোর আহ্বান
    এই সময় | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির চা–বলয় গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি। ২০১৯ থেকে ২০২৪–এর লোকসভা ভোটে এই অঞ্চলে বিজেপি তার প্রভাব ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চা–বলয়ের জনতার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি রক্ষা করেননি বলে মনে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    রাজ্যের জনতাকে রিলিফ দেওয়ার বদলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) শুনানির লাইনে মানুষকে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। তাঁর আরও দাবি, বাংলায় ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ ব‍ন্ধ করে দিয়েছে। উল্টোদিকে চা–বলয়ে তৃণমূল একাধিক ভোটে হারলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে কন্যাশ্রী— কোনও প্রকল্প বন্ধ করেনি।

    তৃণমূল–বিজেপির এই মডেলের তুলনা করে অভিষেক শনিবার আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা–বাগান সংলগ্ন ময়দানের জনসভায় বলেন, ‘দুটো মডেল রয়েছে। একটি বিজেপির মডেল, একটি তৃণমূলের মডেল। বিজেপিকে ভোট দিলে ওরা পয়সা দেবে না। তৃণমূলের মডেল হলো, আপনারা ভোট না দিলেও সরকার তার কাজ করবে। পানীয় জল, রাস্তা, গ্রামীণ আবাস হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী প্রকল্প চলবে।...এ বার বিজেপিকে সবক শেখানোর ভোট। ভোট টু প্রোটেস্ট। এদের সাফ করে দি‍ন। এদের উপড়ে ফেলে দি‍ন।’

    ২০২৪–এর লোকসভা ভোটে চা–বলয়ের সাড়ে চারশোর বেশি বুথের ৫০ শতাংশে তৃণমূল লিড নিয়েছি‍ল। অভিষেকের এ বারের টার্গেট ১০০ শতাংশ বুথে লিড নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রেই জোড়াফুল ফোটানো। যদিও তৃণমূল সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারে, তা হলে ২০২৯–এর লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে আর ভোট দিতে হবে না বলেও ঘোষণা করেছেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘তৃণমূলকে জিতিয়ে যদি দেখেন কোনও লাভ হয়নি, তা হলে ২০২৯–এ হটিয়ে দেবেন।...আলিপুরদুয়ার সবুজ হওয়ার পরেও যদি কাজ না হয়, তিন বছর পরে সুযোগ পাবেন। যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন।’

    ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসে তিনি এই প্রকল্প চালু করেন। উত্তরবঙ্গের চা–বলয়ে তৃণমূল জয়ী হতে না পারলেও শুধু আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পে গত পাঁচ বছরে ১৫০০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

    অভিষেকের কথায়, ‘তৃণমূল এবং বিজেপি সরকারের মধ্যে পার্থক্য হলো, বিজেপি হেরে যাওয়ার পরে বাংলার সব টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল হেরেছে, কিন্তু হেরে যাওয়ার পরেও একটি বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের সরকার মাসে পাঁচ কোটি টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য খরচ করে। আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি বিধানসভায় মাসে ২৫ কোটি টাকা খরচ হয়। ১২ মাসে কত খরচ হয়? তিনশো কোটি টাকা। পাঁচ বছরে কত খরচ হয়েছে? ১৫০০ কোটি।’

    কেন মোদীর ঘোষিত ডানকানের চা–বাগানের অধিগ্রহণ হয়নি, তা নিয়ে বিজেপির সাংসদ–বিধায়করা প্রশ্ন তোলেননি বলেও অভিযোগ অভিষেকের। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে পদ্মের কোনও সাংসদ–বিধায়ক কেন্দ্রকে একটি চিঠিও লেখেননি। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির সাংসদ আর সাপ একই। ঘরের পিছনে দু’–একটি সাপ কিংবা ১২টি যদি সাপ ছেড়ে দেন, সেই সাপ তো কাটবেই। এ বার একটিও সাপ রাখা যাবে না আলিপুরদুয়ারে।’

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের সভা থেকে পাল্টা তৃণমূলকে টার্গেট করেছেন। সুকান্তর কথায়, ‘উত্তরবঙ্গে গিয়ে বলেছে, পাঁচ মিনিটে নাকি আলিপুরদুয়ার জেলা সবুজ হয়ে যাবে। ওখানে অনেক চা বাগান রয়েছে তাই এই জেলা এমনিই সবুজ রয়েছে।...পুলিশ সরে গেলে তৃণমূলকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ১৫ মিনিটে তৃণমূলের সব অফিস বন্ধ হয়ে যাবে।’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার চা বাগানের উন্নতি করতে চাইলেও তৃণমূলের মদতেই বাগান মালিকরা মামলা করে সেই রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সুকান্ত।

  • Link to this news (এই সময়)