• বিএলও-সহ আরও ৪ মৃত্যু
    আনন্দবাজার | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মধ্যেই এক বুথ লেভল অফিসার (বিএলও)-সহ চার জনের মৃত্যু এবং তার নেপথ্যে ‘শুনানি-আতঙ্কে’র অভিযোগ তুলেছে পরিবার ও তৃণমূল কংগ্রেস। এই অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে শনিবার ফের নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পক্ষান্তরে, এসআইআর-এর ফলে নাম-বাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তৃণমূলকে পাল্টা নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    কোচবিহারের বাণেশ্বরের আশিস ধর (৫২) নামে এক বিএলও শুক্রবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। পরিবারের কেউ কেউ তৃণমূলের কাছে দাবি করেছেন, এসআইআর-চাপে ছিলেন আশিস। মৃতের ভাই দিলীপ ধর অবশ্য বলেছেন, “যে কোনও কাজের মতো এখানেও চাপ ছিল। ঠিক কী কারণে এমন হল, দাদা-ই বলতে পারতেন!” ওই দিন সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না-থাকা হুগলির রিষড়ার ধনঞ্জয় চতুর্বেদী (৮৫) নামে এক জনেরও। ছেলে রাজেন্দ্রের দাবি, “শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন বাবা। এসআইআর-আতঙ্কেই মারা গেলেন।” ওই দিনই মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের নাজিতুল মোল্লারও (৬৮)। তাঁর অসুস্থতা, মৃত্যুর জন্য এসআইআর-কেই দায়ী করেছে পরিবার। এসআইআর-এর শুনানিতে পুত্রবধূর ডাক এসেছে, এটা জানার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের অসিত কুন্ডু (৮০)। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে এ দিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অসিতের পুত্রবধূ রত্না দে কুন্ডু বলেন, “শুনানিতে যাচ্ছি শুনে শ্বশুরমশাই বলতে থাকেন, ‘এত দিন এখানে রয়েছি। আমাদের পরিবারকে কেন ডাকা হল?’ ওঁর বুকে অস্বস্তি শুরু হয়।”

    এ পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং কমিশনকে নিশানা করে অভিষেক আলিপুরদুয়ারে দলীয় সভায় বলেছেন, “এসআইআর-এর নামে বয়স্কদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্য রাজ্যে এসআইআর হলেও, হয়রান করা হয়নি। এখানে হচ্ছে, কারণ, মানুষ বিজেপিকে ভোট দেননি।” তাঁর সংযোজন, “যাঁরা বিজেপির কথায় মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, বিশেষ করে ভ্যানিশ (জ্ঞানেশ) কুমার, কে জানেন? জীবিত লোককে মৃত বানান। এঁর থেকে বড় জাদুকর দেশ আগে দেখেনি।” পুরো পরিস্থিতির সঙ্গে নোট-বন্দির সময়ের হয়রানির তুলনাও করেছেন অভিষেক। ভাটপাড়ায় ‘পরিবর্তন সঙ্কল্প যাত্রা’ থেকে বিরোধী নেতা শুভেন্দু ফের বলেছেন, “এখন প্রাতরাশ। এখনই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ। নৈশভোজ বাকি। ভাইপো যেমন দিল্লিতে বলেছেন, তালিকা মানি না। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে বলবেন, আমরা ভোটে লড়ব না।” সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী আসানসোলে বলেছেন, “বিজেপি নেতারা এক কোটি ২০ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি মুসলমানের নাম প্রকাশ করতে না-পারলে ক্ষমা চান। তৃণমূল-বিজেপির রাজনীতির খেলা জমানোর চেষ্টা চলছে।”

    এরই মধ্যে এ দিন ডানকুনি থানায় গিয়েছিলেন বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা। তাঁর অভিযোগ, দু’সপ্তাহ আগে তাঁকে জুতোপেটা করার অভিযোগ জানালেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি জানান, অভিযুক্ত রহিম বাংলাদেশি, ভুয়ো নথিপত্র নিয়ে বচসার সময়ে হামলা চালান। তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধি শেখ আশরফ হোসেনের দাবি, “যুবকের স্ত্রীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে বচসা হয়।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)