এক দিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ। অন্য দিকে, চাকরি রাখার লড়াই! এই দুইয়ের মাঝে পড়ে নাকাল জীবন বিমা নিগমের (এলআইসি) ডেভেলপমেন্ট অফিসাররা। শেষমেশ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তাঁদের সংগঠন ন্যাশনাল ফেডারেশন ইনশিয়োরেন্স ফিল্ড ওয়ার্কার্স অব ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শাখা। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত। বিচারপতি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। কোর্টের খবর, মামলা দায়ের হয়েছে। শীঘ্রই শুনানি হতে পারে।
আদালতের খবর, এলআইসি-র ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের এসআইআর-এর শুনানি পর্বে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ইআরও) দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নিজেদের এলাকা থেকে দূরবর্তী জেলায় নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁদের। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেখানেই বেধেছে গোল। কারণ, ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের চাকরির শর্ত হিসেবে প্রতি বছর বার্ষিক বেতনের থেকে বেশি (একটি নির্দিষ্ট শতাংশের হিসাবে) টাকার ব্যবসা সংস্থাকে পাইয়ে দিতে হয়। সেই টাকা না-দিতে পারলে বেতনে কোপ-সহ নানা শাস্তি, এমনকি চাকরিও চলে যাওয়ার বিধান আছে।
সূত্রের খবর, প্রায় সাড়ে চারশো ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই বলছেন, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাস ব্যবসা জোগাড়ে সব থেকে বেশি চাপ থাকে। এই সময়ে দেড় মাস কাজ থেকে দূরে থাকলে বেতনের থেকে বেশি ব্যবসা দেওয়া যাবে না। তাতে চাকরির উপরে কোপ পড়়তে পারে। অনেকে অবশ্য বলছেন যে ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের অধীনস্থ এজেন্টরা ব্যবসা জোগাড় করেন। তা হলে চাপ কোথায়?
এই পরিস্থিতিতে মামলাকারী সংগঠনের আর্জি, হয় ওই অফিসারদের কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক অথবা সংস্থাকে বলা হোক যে এ বার যেন ব্যবসা কম দিতে না-পারলেও শাস্তি থেকে রেহাই দেওয়া হয়।