কেন্দ্র বললেও একশো দিনের কাজের (মনরেগা) প্রকল্পে ‘শ্রম বাজেট’ বা কাজের পরিকল্পনা পাঠাতে এখনই রাজি নয় রাজ্য সরকার।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের বক্তব্য, গত ৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গে ফের মনরেগা-র কাজ চালু করার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। তবে এ বার প্রকল্পের রূপায়ণ যাতে আইন মেনে হয়, তার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ শর্ত চাপানো হয়েছে। সেই শর্ত পালনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্যের প্রস্তাব এলে তা গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের মনরেগা সংক্রান্ত এমপাওয়ার্ড কমিটি খতিয়ে দেখবে। রাজ্যের অভিযোগ, যে সব শর্ত কেন্দ্র চাপিয়েছে, তা মানা সম্ভব নয়। ফলে এখনই কেন্দ্রের ডাকে সাড়া দেওয়ার উপায় নেই।
যদিও আধিকারিকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই প্রকল্পে আটকে থাকা বরাদ্দ যেমন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, তেমনই স্বচ্ছতার স্বার্থে কেন্দ্র নজরদারি চালাতে এবং বিধি তৈরি যে করতেই পারে বলা হয়েছিল তা-ও।
প্রসঙ্গত, চলতি আর্থিক বছরের শেষ তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) জন্য ‘লেবার বাজেট’ প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে রাজ্যকে। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের অন্দরের বক্তব্য, অনেক ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে একই সঙ্গে। যেমন, পঞ্চায়েত স্তরে সর্বোচ্চ ১০টি কাজ সর্বাধিক ২০ লক্ষ টাকার করা যাবে। কাজ শেষ করতে হবে তিন মাসের মধ্যে—এমন নানা ধরনের শর্ত রয়েছে যা মানাকার্যত অসম্ভব।
দফতরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘‘অনেক শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবে মানা সম্ভবই নয়। সেই কারণে জেনে বুঝেই হয়তো শর্তসাপেক্ষে লেবার বাজেট পাঠাতে বলা হয়েছে। না দেওয়ার অজুহাত মনে হয়।’’ কেন্দ্রের ওই বিশেষ শর্ত মেনে মনরেগা চালু করার চিঠি পাওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ৯ ডিসেম্বর কোচবিহারের জনসভায় প্রবল আপত্তি তুলেছিলেন। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা-র প্রকল্পে অনিয়মের জন্যই টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা আবারচালু হচ্ছে।
এরই মধ্যে মোদী সরকার মনরেগা-র খোলনলচে বদলে বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন জারি করেছে। যেখানে শ্রম বাজেটের ৪০ শতাংশ খরচের দায় রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। তবে তা চালু হতে এপ্রিল হয়ে যাবে।