রাজ্য সরকারের চার আধিকারিক এবং একজন ডেটা-এন্ট্রি-অপারেটরের (ডিইও) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা নিয়ে চাপে রাজ্য সরকার। একদিকে রয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চাপ অন্য দিকে রয়েছে ডব্লিউবিসিএস সংগঠনের দাবি। এই পর্যায়ে কোন অবস্থান রাজ্য নেবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয়কোনও পক্ষই।
গত অগস্ট মাসে যখন প্রথমবার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাসপেন্ড, বিভাগীয় তদন্ত এবং এফআইআরের সুপারিশ করেছিল কমিশন, তখনই সরকারের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করেছিল ডব্লিউবিসিএস সংগঠন। তখন এফআইআর না করে বাকি পদক্ষেপ করে রাজ্য, কমিশনে তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের হাজিরা দেওয়ার পরে। কিন্তু এ বার সুনির্দিষ্ট ভাবে এফআইআরের প্রস্তাব করেছে কমিশন। যদিও ডব্লিউবিসিএস সংগঠন নেতৃত্বের দাবি, এমন এক্তিয়ারই নেই কমিশনের কাছে। ফলে রাজ্য তা করতে বাধ্য নয়। তাদের এই বার্তা যে সরকারের কাছেও পৌঁছবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ঘটনাচক্রে, এর মধ্যে ‘সাসপেনশন’ প্রত্যাহারও করেছে রাজ্য। তাদের যুক্তি, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত গরমিলের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার তাঁদের মধ্যে একজন অবসর নিয়েছেন ইতিমধ্যেই।
সংগঠনের এক নেতার কথায়, ‘‘যে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, তা পদ্ধতিগত একটি ত্রুটি। তাই উঠে এসেছে বিভাগীয় তদন্তে। সাসপেনশন প্রত্যাহারও হয়েছে তাই। ফলে নতুন করে আর কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজনই নেই।’’
এ নিয়ে অবশ্য কমিশন সূত্রের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নির্বাচনী কাজে অসাধু হস্তক্ষেপের বা ইচ্ছাকৃত গরমিলের প্রমাণ থাকলে কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই পারে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান। বরং তাদের অভিযোগ, কমিশনের সুপারিশে বিভাগীয় তদন্ত করা হলেও, তা নিষ্পত্তির আগে কমিশনের অনুমতি নেওয়া জরুরি। যা নেওয়া হয়নি। অবশ্য ডব্লিউবিসিএস সংগঠনের একাংশ দাবি করেছেন, বিভাগীয় তদন্তের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়কে।