• খড়্গপুরে হাজির হয়েই পুরোনো মেজাজে দিলীপ
    এই সময় | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুমন ঘোষ ■ খড়্গপুর

    কলকাতায় অমিত শাহের বৈঠকে ডাক পাওয়ার পরেই ফের স্ব-মহিমায় দিলীপ ঘোষ। শনিবার খড়্গপুরে তাঁকে দেখা গেল সেই পুরনো মেজাজেই। তবে আগের তুলনায় চলনে-বলনে চাকচিক্য বেড়েছে। বলছেন দলেরই কর্মী–সমর্থকদের একাংশ।

    এক সময়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষই ছিলেন রাজ্যে বিরোধী মুখ। তখন তিনি ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি। বিভিন্ন সময়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। রাজ্য সভাপতি হয়েই খড়্গপুর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। পরে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকেও জয়ী হয়ে সাংসদও হয়েছিলেন।

    পরবর্তীকালে তিনটি পদেই 'প্রাক্তন' হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে 'দূরত্ব' বাড়তে থাকে। বিশেষত, বিয়ের পরে স্ত্রীকে নিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে তা নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়। তবে খড়্গপুর বা মেদিনীপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছি‌ন্ন‌ করেননি তিনি।

    জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবার কী ভাবে এগোবেন? দিলীপের উত্তর, 'দশ বছর ধরে যা করে চলেছি সেটাই করি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করি। সভা-সমিতি করি। আমি বিধায়ক, সাংসদ থাকার সময় যে টাকা দিয়েছি, তার কিছু কাজ এখনও বাকি। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিই। সে ভাবেই চলব। তা ছাড়া মর্নিং ওয়াক, আর চায়ে পে চর্চা তো রয়েছেই।'

    এ দিন খড়্গপুরে পা দিয়েই সোজা যান মাদপুরে। সেখানে মনসা মন্দিরে পুজো দিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আড্ডাও দিলেন কিছুক্ষণ। কর্মীদের কাছ থেকে নানা উপহার গ্রহণ করেন দিলীপ। কর্মীদের সঙ্গে আড্ডার ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, এ বার বিজেপি আগের থেকেও অনেক মজবুত হয়ে নামতে চলেছে ২০২৬–এর নির্বাচনে।

    তিনি বলেন, 'গত বারে যে ধরনের অত্যাচার, গন্ডগোল হয়েছে। সেটা আমরা মনে রেখেছি। তৃণমূল আর আগের মতো অত্যাচার করে জিততে পারবে না। লড়াই হবে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে।' কিন্তু বর্তমানে মিম থেকে হুমায়ুন কবীরও যে নির্বাচনের ময়দানে। ভোট কাটাকাটিতে কাদের পাল্লা ভারী হতে পারে এবার? দিলীপের সপাট জবাব, 'আটাই মাখা হল না, কে রুটি খাবে সে চিন্তা করে লাভ নেই।'

    নির্বাচন এলেই দলবদলের হিড়িক পড়ে রাজ্যজুড়ে। এ বারও কী অন্য দল থেকে তেমন কোনও নেতা-কর্মী বিজেপিতে আসতে পারেন? দিলীপ বলেন, 'নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে অদল বদল হয়। যে দিকে জেতার সম্ভাবনা থাকে সে দিকে নেতারা যান। এবারও হবে। জানুয়ারি শেষ হলেই দেখতে পাবেন। আমাদের দলেও অনেকে আসবেন। পার্টি ঠিক করবে কাকে নেওয়া হবে, কাকে হবে না।'

    এখনও খড়্গপুর সদর বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে আগামী নির্বাচনে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে তা এখনও ঠিক হয়নি। যদিও সে সব নিয়ে মাখা ঘামাতে নারাজ দিলীপ এ দিন বোঝালেন, জনসংযোগের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি 'চা চক্র' তিনি চালিয়ে যাবেন।

    মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, 'দিলীপ ঘোষ নিয়ে আমাদের নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। শুনানির নামে যে ভাবে মানুষকে প্রতিদিন হয়রানি করছে, ছাড় পাচ্ছেন না বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও, তাতে মানুষ জবাব দিতে তৈরি।'

  • Link to this news (এই সময়)