এই সময়, পটাশপুর: তৃণমূল করে ভুল করেছেন তিনি। প্রকাশ্য জনসভায় মাটি ছুঁয়ে এমন মন্তব্য করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পটাশপুরের মথুরার চক্রসুলে বিজেপির সভায় সকলের সামনে এভাবেই ভুল স্বীকার করতে দেখা গিয়েছে বর্ষীয়ান নেতা শিশিরকে। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও প্রাক্তন দলীয় সাংসদের এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
একটা সময়ে পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবারই ছিল তৃণমূলের শেষ কথা। ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে জোড়াফুলের। পরে আরও দুই ছেলে দিব্যেন্দু ও সৌমেন্দু আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেও শিশির এখনও অনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেননি।
যদিও তৃণমূলের সঙ্গে তেমন সংস্রব না থাকা শিশিরকে প্রায়ই বিজেপির বিভিন্ন সভা–সমিতিতে দেখা যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় পটাশপুরে বিজেপির সভায় প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ গলায় কাপড় জড়িয়ে হাত জড়ো করে বলেন, 'ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম। আপনাদেরও ভুল পথে চালিত করেছিলাম। সেই ভুলের জন্যে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম।'
তাঁর কথায়, 'এখন তৃণমূলের সবটাই দুর্নীতি। কেন্দ্রের টাকায় উন্নয়ন না করে সেই টাকা সুদে খাটাচ্ছে।' তাঁর গুরুতর অভিযোগ, রাজ্য সরকার জমি দেয়নি বলে দিঘায় রেল সম্প্রসারণের কাজ হয়নি।
এ দিন সভা থেকে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে সঠিক রাস্তায় ফিরে এসে '২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আহ্বান দেন তিনি। পাশাপাশি এ দিনের সভায় সভায় তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য অমিত মণ্ডলের নেতৃত্বে ৬০ জন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন।
শিশিরের মন্তব্য নিয়ে ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি বলেন, 'উনি সত্যি কথাই বলেছেন।' যদিও তৃণমূলেরকাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি পন্ডার বক্তব্য, 'তিনি এক সময়ে তৃণমূল করতেন ঠিকই। বর্ষীয়ান মানুষ। তবে মানুষ জানে রাজ্যে উন্নয়ন তৃণমূলের হাত ধরেই এসেছে।'
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিশিরের এমন মন্তব্য বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে কি না তা নিয়ে ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।