• আরজি করে পোস্টিং অনিকেতের! বিতর্ক, ভাইরাল অর্ডার
    এই সময় | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা (২৫ ডিসেম্বর) পেরোনোর পরেও ন্যায্য পোস্টিং দেয়নি স্বাস্থ্য দপ্তর। তাই সরকারি প্রতিহিংসার কারণ দর্শিয়ে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ (এসআর-শিপ) ছাড়তে চান, এই সিদ্ধান্তের কথা শুক্রবারই ঘোষণা করেছিলেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাজারে ছড়িয়েছে অনিকেতকে আরজি করেই ন্যায্য পোস্টিং দেওয়ার সরকারি অর্ডার (যার সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়')।

    ২০২৫-এর ৩১ ডিসেম্বর (যে দিন অনিকেত পদত্যাগ করেন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতি ও সদস্য পদ থেকে) বেরোনো সেই অর্ডারের প্রতিলিপি শনিবার বিকেল থেকে ভাইরাল হলেও তার সত্যতা ও যথার্থতা— না সরকারি আধিকারিক, না অনিকেত, কেউ স্বীকার করেননি। ফলে সেই অর্ডার ফেক কি না, সে প্রশ্নও উঠছে। কারণ, ওই অর্ডার নিয়ে অনিকেত বলছেন, তিনি এমন কিছু পাননি। স্বাস্থ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটেও এমন কোনও অর্ডার আপলোডেড নেই। এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সোরেন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, আরজি কর কর্তৃপক্ষ—সকলেই এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

    এ দিকে অনিকেত এ দিন সন্ধ্যায় জানান, ই-মেল আইডি, বেলপাহাড়িতে বাড়ির স্থায়ী ঠিকানা, স্থানীয় পোস্ট অফিসেও অর্ডার সার্ভড হয়নি। অনিকেত এও জানান, এই অর্ডার যে দিনই বের হোক না কেন, সেটি এখন তাঁর কাছে অপ্রাসঙ্গিক, অর্থহীন। কারণ তিনি যে আর এসআর-শিপ চালিয়ে যাবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে তা তিনি শুক্রবারই জানিয়েও দিয়েছেন সকলকে। আর শনিবার তিনি স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য সচিবকে এসআর-শিপ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা অফিসিয়ালি ই-মেল করেও জানিয়ে দিয়েছেন বলে এ দিন দাবি করেন অনিকেত।

    দুটো তারিখ মিলে যাওয়ায় কেউ এ প্রশ্নও তুলছেন যে, পোস্টিং অর্ডার বেরিয়েছে জেনেই কি তিনি এসআর-শিপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তিনি নিজে অবশ্য এই সব সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এগুলো নেহাতই কাকতালীয়। বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা সরকারকে মিটিয়ে দিয়ে এসআর-শিপ থেকে এখন অব্যাহতি চান।

    এ দিকে অনিকেতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সম্পর্ক ছিন্ন হলেও, এই অর্ডারের প্রতিলিপি ভাইরাল হওয়ার পরে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ফ্রন্ট ফেসবুক পোস্ট করেছে। তাতে ফ্রন্টের তরফে এই অর্ডারের প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়েছে— 'প্রতিহিংসামূলক ও বেআইনি পোস্টিং পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের আন্দোলনের জয়!'

  • Link to this news (এই সময়)