সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একের পর এক বিজেপি শাসিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের রাজ্যের বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা। ইন্দোরের পরে এবার প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটে বিষাক্ত জল খেয়ে অসুস্থ সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত গান্ধীনগরের জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন মন্ত্রী নিজে।
জানা গিয়েছে, গত পাঁচ দিনে গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগরে ১০০ জনেরও বেশি টাইফয়েড রোগীর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে শিশুসহ ১০৪ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি সিভিল হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। রোগী এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২২ জন ডাক্তারের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে প্রশাসন। ডেপুটি কালেক্টর-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাংভি জানিয়েছেন, “বর্তমানে ১০৪ জন রোগীর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করছে। রোগী এবং তাদের পরিবারকে আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রচেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, রোগীদের পরিবারের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কালেক্টর এবং মেয়র ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালের সব সুযোগ-সুবিধার তদারকি করবেন। গত তিন দিনে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে টাইফয়েডের আক্রমণ। বেশিরভাগ রোগীকেই শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
সিভিল হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ মিতা পারিখ বলেন, ভর্তি থাকা সকল রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি জানান যে আক্রান্ত এলাকা থেকে সংগৃহীত জলের নমুনা থেকে দেখা গিয়েছে, সেই জল খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। গান্ধীনগর পুর কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ এই রোগের উৎস খুঁজে এই এলাকাগুলিতে ঘরে ঘরে সমীক্ষা শুরু করেছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই এলাকার বাসিন্দাদের জল গরম করে খাওয়ার এবং রান্না করা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি, ভারতের পরিচ্ছন্নতম শহর ইন্দোরে নলবাহিত জল পান করে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হুলস্থূল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২০০-রও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে চড়া দামে পানীয় জল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।