• ভেনেজুয়েলায় ‘মার্কিন আগ্রাসনে’র প্রতিবাদে রাতেই পথে সিপিএম, হাড়কাঁপানো শীতেও রাজপথে সেলিম-সূর্যকান্তরা
    প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ আমেরিকার। অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে মিছিল করল সিপিএম। মাত্র ৩ ঘণ্টার নোটিসে কলকাতার রাজপথ ভরিয়ে দিল বামেরা। মিছিলের নেতৃত্বে হাঁটলেন মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। বামেদের বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার উপর আমেরিকার এই আক্রমণ ‘ঘৃণ্য।’ এটা গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।

    শনিবার প্রবল শীত উপেক্ষা করেই ভেনেজুয়ালার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করলেন বাংলার কমরেডরা। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বঙ্গ সিপিএমের প্রবীণ নেতারা। মশাল হাতে কলকাতার রাজপথে হাঁটালেন তাঁরা। হাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী পোস্টার। এখানেই শেষ নয়, আগামী ৫ জানুয়ারি ধর্মতলায় ৬ নং গেটের সামনে থেকে আমেরিকা বিরোধী আরও একটি মিছিল বের করা হবে। সেই মিছিলের আয়োজন করবে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই ও এসএফআই।

    আগেই সিপিএম পলিটব্যুরোর তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে রাষ্ট্রনেতাকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। কোনও স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। এই ঘটনার দেশজুড়ে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।” সিপিএমের দাবি, “আমেরিকার এই আগ্রাসী পদক্ষেপ শুধু ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকেই নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।” ভারত সরকারের কাছেও বামেদের দাবি, আমেরিকার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘ সনদের পক্ষে জোরালো সওয়াল করা।

    আসলে ভিয়েতনাম হোক বা ভেনেজুয়েলা। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে তথাকথিত ‘সাম্রাজ্যবাদী’ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হতে সময় নষ্ট করে না সিপিএম। বিশেষত সেই আগ্রাসন যদি বাম বিরোধী হয়। কিন্তু বিরোধীরা প্রশ্ন করছে, বাংলাদেশে যখন সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়, তখন কেন প্রতিবাদ করতে দীর্ঘ সময় নিয়ে নেয় সিপিএম? দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, যে দ্রুততার সঙ্গে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে পার্টি সরব হল, সেই একই দ্রুততা স্থানীয় ইস্যুতে দেখা যায় না কেন?
  • Link to this news (প্রতিদিন)