• শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে মাথা ফাটল ৭২-এর বৃদ্ধের, হাজির ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, জোড়া ঘটনায় শুরু রাজনৈতিক তরজা
    এই সময় | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে হাজিরা দিতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন ৭২ বছরের এক বৃদ্ধ। মাথা ফাটল তাঁর। রবিবারই ওই শুনানি কেন্দ্রে ডাক পেয়েছিলেন এক অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনা দু’টি হুগলির তারকেশ্বর বিডিও অফিসের হিয়ারিং সেন্টারের। রবিবার এই দুই ঘটনাকে সামনে রেখে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক তরজা।

    তারকেশ্বর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভরতচন্দ্র সামন্ত এবং তাঁর স্ত্রী চিত্রলেখা সামন্ত। দু’জনেই ৭০ ঊর্ধ্ব। শুনানির জন্য নোটিস পেয়ে তাঁরা টোটোয় করে রবিবার উপস্থিত হয়েছিলেন তারকেশ্বর বিডিও অফিসে। কিন্তু টোটো থেকে নামার সময়েই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন ভরতচন্দ্র। মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। সেই সময়ে তাঁর মাথাতে চোট লাগে এবং ফেটে যায়। শুনানি কেন্দ্রে থাকা অন্যরা তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন বিডিও সীমা চন্দ্র। অসুস্থ বৃদ্ধকে ধরে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। সেখানে ভরতচন্দ্রের মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়।

    তাঁর স্ত্রী চিত্রলেখা সামন্ত বলেন, ‘টোটো থেকে নামতেই ও উল্টে পড়ে যায়। ওঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। অসুস্থ জানা সত্ত্বেও এ দিন আমাদের সাড়ে ১২টার মধ্যে আসতে বলা হয়েছিল। আমরা সেখানে পৌঁছনোর পরেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা তারকেশ্বরে ১৭ বছর ধরে বসবাস করছি।’

    অন্য দিকে, এ দিন তারকেশ্বরের বালিগোড়ি এলাকার বাসিন্দা নেহা পোদ্দারকেও শুনানির জন্য ডাকা হয়। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। যদিও কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, ৮৫ ঊর্ধ্ব, অন্তঃসত্ত্বা এবং অসুস্থদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে। কিন্তু তার পরেও কেন শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে হলো নেহাকে? এই তরুণীর বাবা বলেন, ‘নোটিসে এ দিনের তারিখ দেওয়া হয়েছিল হিয়ারিংয়ের জন্য। আমি বিএলও-কে বলেছিলাম। তিনি বলেন, পরে বাড়ি গিয়ে হিয়ারিং হবে। কিন্তু তা কবে হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে চলে এসেছি। কাজ হয়েছে। আর ডাকবে কি না, কে জানে!’

    এই দু’টি ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতা প্রভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘৭২ বছরের শিক্ষককে শুনোনিতে ডাকা হয়েছে। তিনি অসুস্থ, সে কথা জানিয়েছিলেন। তার পরেও তাঁকে আসতে হলো। আমরা ওঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ৭২ বছরের এক প্রবীণকে প্রমাণ করতে হচ্ছে, তিনি এ দেশের নাগরিক। এটা লজ্জার।’ পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা মহিলার শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

    অন্য দিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতা গণেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘একজন বয়স্ক ব্যক্তির মাথা ফেটে গিয়েছে। তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।

    তারকেশ্বরের বিডিও সীমা চন্দ্র বলেন, ‘৮৫ ঊর্ধ্বদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হচ্ছে। যাঁরা অসুস্থতার কথা জানাচ্ছেন, তাঁদের কথাটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। যে প্রবীণ পড়ে গিয়েছিলেন, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।’ যদিও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কেন নেহাকে শুনানিতে হাজির হতে হলো, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি এই বিডিও। তিনি বলেন, ‘এখন মিটিংয়ে রয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বলব।’

  • Link to this news (এই সময়)