• অক্সিজেনের নল গুঁজে শুনানিতে, আতঙ্কে মৃত বৃদ্ধ
    আজকাল | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে বাংলায়। শুনানিতে হাজিরা দিলেও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে আরও এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক পরিণতি হল। তাঁর মৃত্যুর পর কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। 

    ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে। মৃত বৃদ্ধের নাম, নাজিতুল মোল্লার। ৬৮ বছরের ওই বৃদ্ধ জয়নগর দুই নম্বর ব্লকের গড়দেওয়ানি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ঠাকুরেরচক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, শুনানি থেকে ফেরার পর আতঙ্কে অসুস্থ হয়েই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। 

    বৃদ্ধের পরিবার আরও জানিয়েছে, এসআইআর আতঙ্কে অসুস্থ হওয়ার পরেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। এরই মধ্যে এসআইআর-এর শুনানির ডাক আসে তাঁর। হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে তাঁকে শুনানির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। অক্সিজেনের নল গুঁজে শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন। 

    শুনানি শেষে ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। এসআইআর নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এর পাশাপাশি শুনানির ধকল সহ্য করতে পারেননি বৃদ্ধ। 

    ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম না পাওয়ায় বৃদ্ধ আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, এই দুশ্চিন্তার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি জয়নগরের বাসিন্দা নাজিতুল মোল্লা (৬৮)। সেই আতঙ্কেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

    অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২০ ডিসেম্বর তাঁকে প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এর মধ্যেই ৩১ ডিসেম্বর নাজিতুলকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বন্ডে সই করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। 

    নাজিতুলের পরিবারের এক সদস্যের কথায়, উনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ঠিক এই সময়ই আসে এসআইআরের শুনানির ডাক। শারীরিক অবস্থা উপেক্ষা করেই নাকে অক্সিজেনের নল গুঁজে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন উনি। কিন্তু ওই যাতায়াতের ধকল নিতে পারেনি শরীর।পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই এসআইআর নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন নাজিতুল। শারীরিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানসিক চাপও তাঁর মৃত্যুর কারণ। বাড়ির লোকের কথায়, এসআইআর কেড়ে নিল মানুষটাকে। 

    জয়নগরের তৃণমূল নেতা শাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, নির্বাচন কমিশনের SIR নামক ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলার একের পর এক মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে। এর দায় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির-কেই নিতে হবে। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

    প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন। 

    বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন। 

    এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)। 
  • Link to this news (আজকাল)