লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের ঘরবন্দি রাখার নিদান বিজেপি নেতার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার দাসপুরের কলাইকুন্ডু ময়দানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের জনসভা ছিল। দলের পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা উপলক্ষে ওই সভায় বক্তব্য রাখার সময় কালীপদ সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই নির্বাচনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলারা যেমন ভারতীয় জনতা পার্টিকে ভোট দেবেন। তেমনই এমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মায়েরাও আছেন, যাঁরা জোড়াফুলে ভোট দিতে যাবেন। আমি সেই সমস্ত পরিবারের স্বামীদের বলছি ওই মায়েদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেবেন। ভোটটা দিতে হবে পদ্মফুলে, জোড়া ফুলে নয়।’
চলতি বছরের এপ্রিল–মে মাসে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচন ঘিরে এখন থেকে তপ্ত বঙ্গের রাজনীতি। রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প হল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের এবার নিশানা করছে বিজেপি। বিজেপি নেতার এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘মহিলা বিরোধী বিজেপি। তাঁরা বাংলা বিরোধী। ভয় পেয়ে স্বামীদের দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখার নিদান দিচ্ছে। এর জবাব বাংলার মা বোনেরা ভোটের সময়ে দেবে।’
যদিও নিজের মন্তব্যে অনড় বিজেপি নেতা কালীপদ। তিনি জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়ে যে সব মায়েরা তৃণমূলকে ভোট দিতে যাবেন তাঁদের বেকার ছেলেমেয়ে ও স্বামীদের কর্মসংস্থানের দিকটা বিবেচনা করে ভোট দেওয়া উচিত। না হলে তাঁদের ছেলেমেয়ে, স্বামীদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যে চাকরি নেই, কর্মসংস্থান নেই। মায়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়ে তৃণমূলকে ভোট দেবে আর তাঁদের স্বামী, ছেলেরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাবে এটা হতে পারে না।
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে, ‘দাসপুরে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্তের তালিবানি ফতোয়া–– লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের নাকি ঘরে বন্দি করে রাখতে হবে। এটাই বিজেপির আসল নারী বিদ্বেষী রূপ। যাঁরা মুখে নারী শক্তির কথা বলে তারাই আজ মা–বোনেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে চায়।’