লক্ষ্য বাংলার উন্নতি, রাজ্যের স্বার্থে রাষ্ট্রপতির কাছে ‘ইস্তেহার’ জমা দিলেন রাজ্যপাল
প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশ করা হল ইস্তেহার। তবে এই ইস্তেহারকোনও রাজনৈতিক দলের নয়, বাংলার উন্নতির জন্য কী কী করা প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতির কাছে সেই রিপোর্ট ইস্তেহারের আদলে জমা দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। পরবর্তীতে এই ইস্তেহাররাজ্যের সব রাজনৈতিক দল, এমনকী রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছেও দেওয়া হতে পারে, সেই কথাও জানান রাজ্যপাল।
সাধারণত, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলই ইস্তেহার প্রকাশ করে ভোটারদের জানায়, তারা ক্ষমতায় এলে কী কী করতে চায়। হঠাৎ করে রাজ্যপাল কেন সেই কাজ করতে গেলেন? জবাবে আনন্দ বোস বলেন, “এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবিধানিক দায়িত্বে থেকে গত কয়েক বছরে আমি যা যা দেখেছি, বুঝেছি, সেটাই রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছি। এটাকে একটা পরিকল্পনা বলতে পারেন। যেখানে কৃষি থেকে শিল্প, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্যে কোথায়, কীভাবে, কী কী করলে তা বিকশিত বাংলা হবে, তার রূপরেখা আছে।”
যে ইস্তাহার রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছেন রাজ্যপাল, তার শীর্ষক–শান্তি, শুদ্ধি ও সমৃদ্ধি। ‘রোডম্যাপ ফর এ নিউ বেঙ্গল’। অর্থাৎ নতুন বাংলার রূপরেখা। এই ইস্তাহারের প্রচ্ছদ নিয়েও আবার শুরু হতে পারে বিতর্ক। দুর্গাঠাকুর, হাওড়া ব্রিজ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হলুদ ট্যাক্সি, গ্রামবাংলার পাশাপাশি প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে দু’জনের ছবি। যাঁদের একজন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। অন্যজন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, শীতকালীন অধিবেশনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলার বিভিন্ন মনীষী ও বন্দে মাতরমের ভুল উচ্চারণ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ অনেক বিজেপি সাংসদ।
এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে মূলত তিনটি বিষয় জানিয়ে এসেছেন রাজ্যপাল। যার প্রথমটি হল এই ইস্তেহার ও দ্বিতীয়টি রাষ্ট্রপতির জীবনীর উপর বই লেখার ইচ্ছাপ্রকাশ। তৃতীয় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা যাবে না বললেও সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন ‘দুর্নীতি’ ও ‘অপশাসন’ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির কাছে নালিশ জানিয়েছেন রাজ্যপাল।