হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের কন্যাসন্তানরা এখন আর সমাজের বোঝা নয়, বরং শক্তির উৎস। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত ধরে ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা’ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মেয়ের জীবনে এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ২৭ লক্ষ মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হয়েছে। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এবং কন্যা ভ্রূণহত্যা রোধ করাই এই মহৎ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ইতিমধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রাজ্য সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬৪৭.২১ কোটি টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দিয়েছে। চলতি অর্থ বছরেই প্রায় ৩.২৮ লক্ষ মেয়েকে ১৩০.০৩ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা এবং যাদের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার নিচে, তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে একটি পরিবারে সর্বোচ্চ দুটি সন্তান পর্যন্ত এই সুবিধা সীমাবদ্ধ।
২০২৪-২৫ অর্থ বর্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার করা হয়েছে। এই টাকা মোট ৬টি ধাপে দেওয়া হয়ে থাকে।
১. জন্মগ্রহণের সময় ৫,০০০ টাকা।
২. দুই বছর বয়সে টিকাকরণ সম্পূর্ণ হলে ২,০০০ টাকা।
৩. প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় ৩,০০০ টাকা।
৪. ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় ৩,০০০ টাকা।
৫. নবম শ্রেণিতে ভর্তির সময় ৫,০০০ টাকা।
৬. দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে উচ্চশিক্ষায় (ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি কোর্স) ভর্তি হলে ৭,০০০ টাকা।
এই সুসংগঠিত সহায়তা মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং আত্মনির্ভর হতে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে। যোগী সরকারের এই নিরন্তর প্রচেষ্টা আজ উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি ঘরে মেয়েদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।