সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর ‘আতঙ্কে’ রাজ্যে পরপর মৃত্যুর অভিযোগ! এই ইস্যুতে একাধিকবার কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী মৃত্যুর দায় কমিশনকে নিতে হবে বলেও সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। যদিও এসআইআর আবহে মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’ বলেই মনে করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী! তাঁর কথায়, ”গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও কারণে কেউ মারা যাবেন না এমনটা তো হতে পারে না।” আর এহেন ‘অসংবেদনশীল’ মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। যা নিয়ে পালটা তোপ দেগেছে তৃণমূল।
বর্তমানে রাজ্যে এসআইআরের শুনানিপর্ব চলছে। শুনানিপর্ব ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির অভিযোগ সামনে আসছে। এমনকী শুনানি থেকে ফিরেই শনিবার জয়নগরের বাসিন্দা ৬৮ বছরের নাজিতুল মোল্লার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ শরীরে নাকে অক্সিজেনের নল লাগিয়ে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেন নাজিতুল মোল্লা। একদিকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা, অন্যদিকে শুনানিতে ধকল সহ্য করতে না পেরেই অসুস্থ হয়ে নাজিতুলের মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”এই বিষয়ে কিছু টিপ্পনি করব না। তবে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও কারণে কেউ মারা যাবেন না এমনটা তো হতে পারে না। জন্ম-মৃত্যু একটা সার্কেল। প্রতিদিনই ঘটে, প্রতি ঘণ্টাতেই ঘটে। সব জায়গাতেই রাজনীতি খোঁজা দরকার নেই।” শুভেন্দু অধিকারীর এহেন মন্তব্যকেই ‘অসংবেদনশীল’ বলে দাবি শাসকদলের। শুধু তাই নয়, আতঙ্কে মৃত্যুই তাহলে স্বাভাবিক? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
যদিও এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ”মানুষ হলে কেউ এমন মন্তব্য করতে পারেন না।” জয়নগরের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল নেতা বলেন, ”একজন বৃদ্ধকে এই বয়সে এসে প্রমাণ দিতে হচ্ছে তিনি রোহিঙ্গা মুসলিম নয়। কয়েক কিমি দূরে যেতে হচ্ছে ঠান্ডার মধ্যে। এর মধ্যে আছে চিন্তা, চাপ। মৃত্যু হলে সেখানে এই ধরনের কথা অর্থাৎ স্বাভাবিক বলা হচ্ছে।” এর দায় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিজেপিকেও নিতে হবে বলে তোপ অরূপ চক্রবর্তীর।